ভারত, চুম্বন, ধর্ষণ
কিশোর ও তার বাবাকে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ঘটনায় কিশোরীর পরিবারকেও একই ধরনের শাস্তি দিলো পুলিশ । সংগৃহীত

ভারতের কলকাতার বেহালা অঞ্চলের সরশুনায় কিশোরীকে চুম্বনের অভিযোগে এক তরুণ, তার বাবা ও এক বন্ধুকে মারধর এবং নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছিল কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ কিশোরীর বাবা, মামা-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতারদের সাথে নিয়ে ওই ঘটনার ‘পুনরাবৃত্তি’ করা হয়।

Advertisement

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ব্যতিক্রমী এই বিচারের আয়োজন করে। এ সময় কিশোরীর বাবা, মামা এবং ঘটনার সাথে যুক্ত অভিযোগে আটক আরেক ব্যক্তিকে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোও হয়। তিনজন ব্যক্তির পরনে হাফ প্যান্ট এবং খালি পা ছিল।

একদিকে বেহালায় ওই তরুণ, তার বাবা ও বন্ধুকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর যেমন এর নিন্দা হচ্ছে, তেমনই অভিযুক্তদের খালি গায়ে হাঁটানোর মতো পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর’র সহ-সভাপতি রঞ্জিত শূর বলেছেন, ‘বেহালায় পুলিশ আজ যা ঘটাল চরম প্রতিহিংসার শিকার হয়ে, অভিযুক্তদের মতো একই কায়দায় অভিযুক্তদেরও খালি পায়ে, খালি গায়ে, কোমরে দড়ি পরিয়ে হাঁটালো- তাতে অভিযুক্তদের থেকে বড় অপরাধ করেছে পুলিশ তথা সরকার।’

বেহালার সরশুনার এই ঘটনার সূত্রপাত রোববার।

বছর ১৩-র এক কিশোরীর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো স্থানীয় এক তরুণ। সাথে (ওই তরুণের) এক বন্ধুও ছিল।

সেই সময় ওই তরুণ কিশোরীকে চুম্বন করে বলে অভিযোগ ওঠে। কিশোরীর পরিবারের এক পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাটি দেখতে পান এবং তার বাবাকে জানান।

অভিযোগ, এরপর কিশোরীর বাবা ও মামা দুই তরুণকে মারধর করেন। ওই তরুণের বাবাকে ডেকে পাঠানো হয়। সেই তরুণ, তারা বাবা ও বন্ধু তিনজনকেই বন্দুক দেখিয়ে বিবস্ত্র হতে বলা হয় বলে অভিযোগ। বিবস্ত্র অবস্থায় তাদের বেশ কিছুটা হাঁটানো হয় এবং তার ভিডিও রেকর্ড করা হয় বলেও অভিযোগ।

পরে ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে এবং কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়, যার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র : বিবিসি