
পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খানকে কে বা কারা হত্যা করেছিল, কেনই বা তাঁকে প্রাণ দিতে হয়েছিল—৭৫ বছর পরও সেই রহস্যের জট খোলেনি। ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডির ঐতিহাসিক কোম্পানি বাগে (বর্তমানে লিয়াকত বাগ) এক জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি। আজ শুক্রবার তাঁর ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
''৭৫ বছর পেরিয়েছে, হয়েছে তিন দফা তদন্ত; পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর হত্যার ঘটনায় আজও কারো বিচার হয়নি''
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জানায়, লিয়াকত আলী খানের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ, বিচার বিভাগীয় কমিশন ও ব্রিটেনের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড—তিন পক্ষই তদন্ত চালিয়েছে। কিন্তু কোনো তদন্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। মামলাটি কখনো আদালতে ওঠেনি। অভিযোগপত্রও তৈরি বা জমা দেয়া হয়নি। একপর্যায়ে থানাতেই মামলাটি ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে।
১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর বিপুলসংখ্যক মানুষের এক জনসভায় যোগ দিতে লিয়াকত আলী খান লিয়াকত বাগে পৌঁছান। সভা শুরু হতেই সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা সাইয়েদ আকবর খান নামে এক ব্যক্তি পিস্তল বের করে গুলি চালান। তিনি আফগান নাগরিক বলে অভিযোগ রয়েছে। দুটি গুলিই লাগে প্রধানমন্ত্রীর শরীরে। তাঁকে দ্রুত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
পুলিশ ঘটনাস্থলেই গুলি করে হত্যা করে অভিযুক্ত আততায়ীকে। ফলে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল, কেনই বা এই ঘটনা ঘটেছিল, সেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর আর মেলেনি।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিচারপতি মুহাম্মদ মুনির ও বিচারপতি আখতার হুসাইনের সমন্বয়ে দুই সদস্যের বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডও তদন্ত চালায়। দুই তদন্তেই হত্যাকাণ্ডকে আততায়ীর ব্যক্তিগত কাজ বলে চিহ্নিত করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত সবপক্ষ মেনে নেয়নি।
গুলির শব্দে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক
রাওয়ালপিন্ডির ঐতিহাসিক আরিয়া মহল্লার ৯৫ বছর বয়সী বাসিন্দা আফতাব মীর তখন তরুণ। কাছেই বাড়ি হওয়ায় সেদিনের জনসভায় লিয়াকত আলী খানের বক্তৃতা শুনতে গিয়েছিলেন তিনি। মুরি রোডের পাশের রেলিংয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, যাতে বক্তৃতা ভালোভাবে শুনতে পারেন।
মীরের স্মৃতিতে, সভা সবে শুরু হয়েছে, এমন সময় গুলির শব্দে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। শুরু হয় হুড়োহুড়ি। রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন মুরি রোডের দিকে লাফিয়ে পড়তে থাকেন।
পরে তাঁরা জানতে পারেন, লিয়াকত আলী খান নিহত হয়েছেন, আততায়ীও মারা গেছে।
ভিড় সরে যাওয়ার পর মীর ও অন্যরা লিয়াকত বাগে ঢুকে দেখেন, চারদিকে ছড়িয়ে আছে শত শত জুতা ও সাইকেল। হুড়োহুড়ির মধ্যে অনেক সাইকেল উল্টে পড়েছিল। রাতে একটি ট্রাক এসে সাইকেল ও জুতাগুলো নিয়ে যায়। এরপর সেগুলোর কী হয়েছিল, তা আর জানতে পারেননি মীর।
নামফলক নেই, হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্য
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোও এই লিয়াকত বাগেই আততায়ীর হামলায় নিহত হন (২৭ ডিসেম্বর ২০০৭)। দুই প্রধানমন্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের রহস্যই আজও অমীমাংসিত। সেই রহস্যের সমাধান হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
ঐতিহাসিক কোম্পানি বাগের প্রধান ফটকে থাকা বিশাল নামফলকটি চলতি বছরের বর্ষা শুরুর আগের ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে ভেঙে পড়ে। সাড়ে চার মাস পেরিয়ে গেলেও সেটি আর বসানো হয়নি। তীব্র আর্থিক সংকটের কারণেই নামফলকটি পুনঃস্থাপন করা যায়নি বলে জানা গেছে।
প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এই পার্কে তিন বছর আগে নামফলকটি বসানো হয়েছিল। এতে খরচ হয়েছিল কয়েক লাখ রুপি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








