
এবার মসজিদগুলোর খুতবাতেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। দেশটির সরকারি সংস্থা ওয়াকফ বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন মসজিদগুলোতে খুতবার জন্য অভিন্ন বিষয়বস্তু প্রবর্তনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত মসজিগুলোতে প্রদত্ত খুতবার বিষয় নির্বাচন করার জন্য ইসলামী পণ্ডিত ও ধর্মপ্রচারকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াকফ বোর্ড। এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো- মাদকাসক্তি ও নারী বিষয়ক উদ্বেগসহ সামাজিক সমস্যাগুলোর আলোচনায় আরো বেশি সামঞ্জস্য আনা।
তবে, এমন প্রস্তাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সচেতনরা। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ইমরান নবী দার অভিযোগ করেছেন- এই পদক্ষেপের ফলে বিজেপি বিশেষত, কাশ্মিরের ধর্মীয় আলোচনাকে প্রভাবিত করার সুযোগ খুঁজছে।
ইমরান নবী দার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, ‘বিজেপি কাশ্মিরের মসজিদগুলোর জন্য শুক্রবারের খুতবার খসড়া তৈরি করবে। মসজিদের খতিবরা কোন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন, সেগুলোকে কী রূপ দেবেন এবং কোন বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়া হবে, তা তারাই ঠিক করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়বস্তু তাদের হবে, শব্দচয়ন তাদের হবে এবং উদ্দেশ্যও তাদেরই হবে।’
দার বলেন, তিনি মৌলবাদী নন, কিন্তু একজন মুসলমান হিসেবে প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন।
হুরিয়াত নেতা ও স্কলার মীরওয়াইজ উমর ফারুকের নেতৃত্বাধীন এবং জম্মু ও কাশ্মিরের গ্র্যান্ড মুফতি নাসির-উল-ইসলাম, মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, বিরোধী পিডিপি প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং অন্যান্য রাজনীতিবিদদের নিয়ে গঠিত জম্মু ও কাশ্মিরের মুসলিম ধর্মীয় সংগঠনগুলোর জোট মুত্তাহিদা মজলিস-এ-উলামা (এমএমইউ) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির সমস্ত মসজিদে অভিন্ন জুমার খুতবা দেয়ার জম্মু ও কাশ্মির ওয়াকফ বোর্ডের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে।
এমএমইউ একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘মসজিদের মিম্বর থেকে কী ধর্মোপদেশ দেয়া হবে, তা কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; এই ধরনের প্রস্তাবনাও হাস্যকর এবং জম্মু ও কাশ্মিরের মুসলমানরা তা কখনোই মেনে নেবে না।’
শুক্রবারের জুমার নামাজে খুতবা দেয়া সাধারণ বিষয়বস্তু চিহ্নিত ও চূড়ান্ত করার জন্য মুফতি, ইমাম ও খতিবদের নিয়ে একটি মূল কমিটি গঠনের জম্মু ও কাশ্মির ওয়াকফ বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এমএমইউ গঠন করা হয়।
জম্মু ও কাশ্মির ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান হলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা ড. সৈয়দ দারাকশান আন্দ্রাবি।
ওয়াকফ বোর্ডের মতে, প্রস্তাবিত অভিন্ন জুমার খুতবাগুলো ইসলামী শিক্ষা অনুসারে ধর্মীয় সচেতনতা, নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য এবং জন ও সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের ওপর আলোকপাত করবে।
ওয়াকফ বোর্ডের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে এমএমইউ বলেছে, ‘মসজিদের মিম্বর একটি আমানত এবং ধর্মীয় নির্দেশনা হলো- উলামা, ইমাম ও স্বীকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বতন্ত্র অধিকার, যা ইসলামী পাণ্ডিত্য এবং বিভিন্ন চিন্তাধারার ঐতিহ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্র বা সরকার ধর্মীয় আলোচনা এবং পূর্বনির্ধারিত বক্তৃতা নির্ধারণের কর্তৃত্ব নিজের কাধে তুলে নিতে পারে না, কিংবা বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








