পাকিস্তান, পরমাণু নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শক্তিশালী,  আইএইএ,
পাকিস্তানের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সংগৃহীত

 

Advertisement

পাকিস্তানের পারমাণবিক   উপাদান ও স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। দেশটিতে প্রথমবার সরেজমিন পরিদর্শন শেষে এ মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি।


দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন ১২ অক্টোবর জানায়, পাকিস্তান সরকারের অনুরোধে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনের এ পরিদর্শন চলে। আইএইএর সাত সদস্যের দল পাকিস্তান পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (পিএনআরএ) আয়োজনে দেশটির পারমাণবিক নিরাপত্তার আইনগত ও নিয়ন্ত্রকারী কাঠামো পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি একটি পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থাও পরীক্ষা করে দেখে।

আইএইএ জানায়, পাকিস্তানের পারমাণবিক উপাদান ও স্থাপনার সুরক্ষাব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর রয়েছে। নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে এ ব্যবস্থা আরো উন্নত করা হচ্ছে। পরমাণু নিরাপত্তায় দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগও জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

পরিদর্শক দল করাচি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কানুপ প্রকল্পও ঘুরে দেখে। পাকিস্তানের প্রথম পারমাণবিক  বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১৯৭১ সালে চালু হয়। কানাডীয় ডিউটেরিয়াম ইউরেনিয়াম (ক্যান্ডু) প্রযুক্তির চুল্লিটি ২০২১ সালে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। সেখানে চুল্লি অপসারণ ও ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন বিশেষজ্ঞরা।

মরক্কোর পরমাণু ও বিকিরণ নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক খাম্মার ম্রাবিতের নেতৃত্বে এ মিশনে চীন, রোমানিয়া, রাশিয়া ও স্লোভাকিয়ার বিশেষজ্ঞ এবং আইএইএর দুই কর্মকর্তা অংশ নেন। পাকিস্তানের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করতে দলটি সুপারিশ করে ও পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রকারী সংস্থা ও পরমাণু স্থাপনায় নিরাপত্তা রক্ষার কিছু প্রশংসনীয় রীতিও দেখতে পেয়েছে এবং সেগুলোর কথা উল্লেখ করেছে।

আইএইএর উপমহাপরিচালক কারিন হারভিউ বলেন, প্রথমবারের এ মিশন সফলভাবে শেষ হওয়া পাকিস্তানের পরমাণু নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো উন্নত করার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। দক্ষ জনবল তৈরিতে দেশটির অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি। পিএনআরএর চেয়ারম্যান জিয়া হুসাইন শাহ বলেন, বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ দেশটির আইনগত ও নিয়ন্ত্রকারী কাঠামো এবং স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো উন্নত করতে সহায়তা করবে।

১৯৯৫ সালে কর্মসূচি শুরুর পর পাকিস্তানে এটি ছিল আইএইএর ১১২তম পরিদর্শন মিশন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশগুলোকে পরমাণু ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আইএইএর নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়। পাকিস্তান পরমাণু উপাদানের ভৌত সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সদস্য। দেশটি ২০১৬ সালে কনভেনশনটির ২০০৫ সালের সংশোধনী অনুমোদন করে।