
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগরে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর পর নতুন বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রেজিনগর আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পর তাকে আটক করা হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ভোটগ্রহণ শুরুর পরই কবির ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেন। পরে একটি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে তার বাগবিতণ্ডা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কার্যালয় থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় কবির বলেন, ‘আমি জানি না আমাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, নাকি আটক করা হচ্ছে।’
বিজেপি প্রার্থী শঙ্করাভ সরকারকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভোটের কয়েক দিন আগে কবির বলেছিলেন, ভোটের দিন ১০ জনের মৃত্যু হবে। শঙ্করাভ অভিযোগ করেন, কবির দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছেন।
পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করার অভিযোগে কবিরকে আটক করা হয়েছে বলে জানান বিজেপি প্রার্থী।
এদিন সকালে রেজিনগরে উপনির্বাচন শুরু হওয়ার পর শক্তিপুরে নিজ গ্রামের বুথে সপরিবারে ভোট দেন বিধায়ক হুমায়ুন কবির। ভোট দিয়েই তিনি নির্বাচন লুটের অভিযোগ তোলেন এবং রেজিনগরে দলীয় কার্যালয়ে চলে আসেন।
পুলিশের অভিযোগ, নির্বাচন চলাকালে দলীয় কার্যালয়ে বসে বিভিন্ন জায়গায় ‘সহিংসতা’ ও ‘উত্তেজনা’ ছড়ানোর উসকানি দিচ্ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ঘুরে ঘুরে ভোটারদের প্রভাবিত করারও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে রেজিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অঞ্জন বর্মন বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ওই কার্যালয়ে হাজির হন। পুলিশ তাকে দলীয় কার্যালয় ছেড়ে সোজা বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু হুমায়ুন পুলিশের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশের সাথে তার ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়িতে ওঠার এই সময়েই হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, নাকি আটক করা হচ্ছে, আমি কিছুই জানি না।’
পরে বেলডাঙার মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা আনন্দজিৎ হোড় তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হুমায়ুন কবির আইন ভেঙেছেন, তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনও জেলা পুলিশের কাছে জরুরি প্রতিবেদন তলব করেছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের তিন রাজ্যের পাঁচটি বিধানসভা এবং আসামের একটি লোকসভা আসনে উপনির্বাচন শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কারণে সবার নজর রয়েছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে। সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র : টাইমস নাউ ও অন্যান্য
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








