
সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, তথ্যসন্ত্রাস জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে ইসলামকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে তথ্যসন্ত্রাস চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এর শিকার হচ্ছেন। এমনকি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এ ধরনের অপপ্রচার থেকে রেহাই পাননি।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত ‘তথ্য সন্ত্রাসের মূলোৎপাটনে রাসূল সা:-এর অবদান ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সিরাত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিন্তা ভাবনা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চের (আইপিডিআর) সহযোগিতায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আরো পড়ুন—দোয়া-ইবাদাত নিয়ে বিদ্রুপ : ভাইরাল সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আ ক ম আবদুল কাদের। তিনি রাসূল সা:-এর প্রদর্শিত তথ্যনৈতিকতা—সত্যবাদিতা, দায়িত্বশীলতা ও যাচাই-বাছাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ড. খালিদ হোসেন তথ্যসন্ত্রাস প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথ্যসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দল-মত ও রাজনৈতিক আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই যেন মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার একটি জাতি বা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবেও তথ্যসন্ত্রাস মানুষের জীবন ও সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রচার ও কথা বলার ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআন এবং রাসূলুল্লাহ সা:-এর নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা একেবারেই উচিত নয়। তথ্যসন্ত্রাসের মূলোৎপাটন কেবল প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন তাকওয়াভিত্তিক তথ্যসংস্কৃতি। প্রতিটি মানুষ যদি তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা ও সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে, তবে রাষ্ট্র ও সমাজপর্যায়ে অপপ্রচার বহুলাংশে কমে আসবে।
চিন্তা ভাবনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. আ ই ম নেছার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: শামসুল আলম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. হেদায়েত উল্লাহ।
এ ছাড়া উপিস্থত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চের চেয়ারম্যান ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলা স্যাটেলাইট সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল ইসলাম, মারভেলাস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ইউসুফ এবং ইউসেট ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. দেওয়ান এম. এ. সাজ্জাদ প্রমুখ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








