হৃদয়ের ইনিংস পাল্টে দিয়েছে সব : ওয়ারিকান

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। লিড ছিল ১৭০ রানের বেশি, স্বাগতিকদের হাতে উইকেট ছিল মাত্র দু’টি। সেখান থেকে তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। তার ২৪২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসে বাংলাদেশ শুধু ঘুরেই দাঁড়ায়নি, পেয়েছে লিডও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহ-অধিনায়ক জোমেল ওয়ারিকানের চোখেও হৃদয়ের এই ব্যাটিং ছিল বিশেষ কিছু। প্রতিপক্ষের এই ব্যাটারকে কৃতিত্ব দিলেন তিনি। গতকাল তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারিকান স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে থাকলেও হৃদয়ের ইনিংস সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা হতাশ। একটা সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে ছিল, সবকিছু আমাদের পক্ষে যাচ্ছিল। কিন্তু হৃদয় দারুণ ব্যাটিং করেছে। এখন পেছনে ফিরে দেখতে হবে, আমরা কী কী আরো ভালো করতে পারতাম।’ ‘তবে দল হিসেবে আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে। কারণ এখনো কাজ বাকি আছে। চতুর্থ দিনে আমাদের ভালো ব্যাটিং করতে হবে।’
হৃদয়ের সাথে শেষ দিকে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের লড়াইও অবাক করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। দুই প্রান্তে টেলএন্ডারদের নিয়ে যেভাবে ইনিংস টেনে নিয়েছেন হৃদয়, তা প্রত্যাশা করেননি ওয়ারিকান- ‘এটা সবাইকেই অবাক করেছে। আমরা তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিলাম। ভাবছিলাম, কত বড় লিড নিতে পারব। কিন্তু সে যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তা ছিল অসাধারণ। তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।’ হৃদয়ের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের সেøজিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল সংবাদ সম্মেলনে। আগের দিন জেইডেন সিলস ও গতকাল ওয়ারিকান ক্রমাগত সেøজিং করেছেন হৃদয়কে। হৃদয়কে উসকে দিয়ে ভুল শট খেলানোর কোনো পরিকল্পনা ব্যাকফায়ার করেছে কি না, এমন প্রশ্নে অবশ্য তা নাকচ করেছেন এই স্পিনার। বরং বাংলাদেশের ব্যাটারের ইনিংসের প্রশংসাই করেছেন তিনি। ওয়ারিকান বলেন, ‘আমার মনে হয় না, আমাদের পরিকল্পনা উল্টো ফল দিয়েছে। আমি মনে করি, সে অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। তাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। দারুণ একটি ইনিংস খেলেছে এবং বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছে।
‘ক্লান্ত হয়েও হাল ছাড়েনি হৃদয়’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছেন তৌহিদ হৃদয়। 
৩৫৯ বলে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় অপরাজিত ২৪২ রান করেন। হৃদয়ের ইনিংসকে অসাধারণ উল্লেখ করে সিমন্স বলেন, দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং এবং দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকার পর শেষ দিকে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন এই ব্যাটার। এটি ছিল অসাধারণ একটি ইনিংস। ক্লান্ত হওয়ার পরও সে যেভাবে বাউন্ডারি খুঁজে পেয়েছে এবং ছক্কা মেরেছে, তা অবিশ্বাস্য। কোন শট কখন খেলতে হবে এবং শেষ তিন ব্যাটারকে কখন স্ট্রাইক দিতে হবে, সে বিষয়ে অসাধারণ ম্যাচ সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে হৃদয়। 
ঢাকায় প্রথম টেস্টে হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে তেমন প্রভাব না থাকায় সিলেটের ইনিংসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ওই ম্যাচে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলার কারণে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে তার ব্যাটিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সিমন্স মনে করেন, টেস্ট ব্যাটার হিসেবে দ্রুত পরিণত হচ্ছেন হৃদয়। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে ভুল করার জন্য তাকে কঠোরভাবে বিচার করা উচিত নয়। ঢাকায় সে দু-একটি বাজে শট খেলেছিল। কিন্তু সেটি ছিল তার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। তাই ওই ভুলের জন্য তাকে দোষারোপ করা যায় না। 
ইনিংস চলাকালে হৃদয়কে কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেননি বলেও জানান বাংলাদেশের কোচ। তার মতে, মাঠে নামার পর ব্যাটারদের নিজেদের দায়িত্ব নিতে হয়। সিমন্স বলেন, তুমি যখন ব্যাটিং করছ, তখন কিভাবে ব্যাটিং করতে হবে, সে বিষয়ে আমি বার্তা পাঠাতে পারি না। একবার সীমানা অতিক্রম করে মাঠে ঢুকে পড়লে দায়িত্ব তাদেরই।

Advertisement