ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা ভবন নির্মাণ!

সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ অফিস
রেলওয়ের জমি দখল করে গড়ে উঠছে খামার, দোকানপাট, বাণিজ্যিক স্থাপনা, এমনকি ১৮ তলা বহুতল ভবনও! প্রশাসনের নাকের ডগায় একের পর এক জমি বেদখল হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে কর্তৃপক্ষ। ময়মনসিংহ নগরের মিন্টু কলেজ এলাকায় রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জমি সীমানার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করে ১৮ তলা ‘এলিট টাওয়ার’ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) ভবনটিতে অভিযান চালায়।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশে এবং ত্রিশালের কালীরবাজার (ফাতেমা নগর) এলাকায়ও সরকারি ভূ-সম্পত্তি বেদখলের অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে রেলওয়ে, অন্যদিকে বৈধ লিজ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যে বিপুল রাজস্ব আদায় সম্ভব, তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
এলিট টাওয়ারে রেলওয়ের জমি : গত বুধবার রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সরেজমিন জমি পরিমাপে সড়ক-সংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা ভবনটির সীমানার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন বলেন, রেলওয়ের জমিতে কোনোভাবেই বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেয়া হবে না।
তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরের মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন দাবি করেন, সব নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনেই ১৮ তলা ভবনটির অনুমোদন নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটিতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের নকশা অনুমোদন করানো হয়। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ অবস্থায় নকশা অনুমোদন ও জমির সীমানা নির্ধারণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কালীরবাজারে ১৫ একর জমি বেদখলের অভিযোগ : ত্রিশালের কালীরবাজার রেলস্টেশন এলাকায় রেলওয়ের প্রায় ১৫ দশমিক ৪৮ একর জমি রয়েছে। এর বড় একটি অংশ অবৈধ দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় রেলওয়ের জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের রেলওয়ের জমি ঘের দিয়ে পশুর খামার, দোকানপাট ও বসতবাড়ি গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদে নোটিশ দিলেও তা কার্যকর হয় না।
এসব ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে রেলওয়ের সব ভূ-সম্পত্তির জরিপ করে মৌজাভিত্তিক ও দাগভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হোক। কোন জমি বৈধ লিজে রয়েছে, কোনটি অবৈধ দখলে এবং কোন জমি অব্যবহৃত- তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধারে সময়সীমা নির্ধারণ, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান, দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা এবং উদ্ধার করা জমির সীমানা পুনর্নির্ধারণেরও দাবি উঠেছে।

Advertisement

 

 

Advertisement