৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বলে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান মানে না বিএনপি: হাসনাত

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Advertisement

৭ নভেম্বরকে বিএনপি বিপ্লব হিসেবে উদযাপন করলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে দলটির দ্বিচারিতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সুবিধা বিবেচনা করে বিএনপি ইতিহাসের ঘটনাগুলো নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে। ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বলা হলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দলটির অনীহা রয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান : বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সৈনিকদের অংশগ্রহণ ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। এতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের পাশাপাশি সৈনিকদের অংশগ্রহণ ছিল। এত বিস্তৃত জনসম্পৃক্ততা ও অর্জন থাকার পরও বিএনপি একে গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, দায়িত্ব নেয়ার প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও মূল্যস্ফীতি কমেনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কথা বলা হলেও তা ১২ শতাংশের ওপরে রয়েছে। 
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আগে দলটির বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। হাসনাত বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বিচার শেষে কারা অপরাধী, তা আদালত নির্ধারণ করবে। এরপর দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করেন, জনগণের মুক্তির আন্দোলনের সুফল ভোগ করলেও পরবর্তী সময়ে বিএনপি জনগণের প্রত্যাশার সাথে প্রতারণা করেছে। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত দলটির ভূমিকার মধ্যে এ প্রবণতা দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের সাথে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দলটির শাসনামলের অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত না করায় সেই উদ্যোগ রাজনৈতিক পুনর্বাসনে পরিণত হয়েছিল। বিএনপিকে একই ভুল দ্বিতীয়বার না করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সারোয়ার বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে গুপ্তচর খোঁজার আগে নিজের দলের ভেতরে কারা সরকারকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন, তা খুঁজে দেখা উচিত। আওয়ামী লীগের প্রশ্নে জিয়াউর রহমান যে ভুল করেছিলেন, বিএনপির সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা উচিত হবে না।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক বলেন, সংবিধানে কোনো বিধান থাকুক বা না থাকুক, জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছা ও রায়ই রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে বড় বৈধতার উৎস। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাতের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন দলের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা।

 

Advertisement