আইইবি নির্বাচনে প্রার্থী বুয়েট থেকে চাকরিচ্যুত ও দুদকের মামলার আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের কেন্দ্রীয় নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বুয়েট থেকে চাকরিচ্যুত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. রিয়াজ হাসান খন্দকার। তার প্রার্থিতা নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সদস্য ও ভোটারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, গুরুতর প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি কিভাবে দেশের প্রকৌশলীদের শীর্ষ পেশাজীবী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন?
আইইবির আগামী মেয়াদের নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রার্থী তালিকায় ড. রিয়াজ হাসান খন্দকারের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই, সংগঠনের নৈতিক মানদণ্ড এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান থাকাকালে ড. রিয়াজ হাসান খন্দকারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় দুদক তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাত লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় মামলার বর্তমান অবস্থা, আদালতের কার্যক্রম এবং অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন। একই সাথে ওই সময় তিনি দেশত্যাগ করেছিলেন কি না এবং দেশত্যাগের সাথে বিচারপ্রক্রিয়া এড়ানোর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয় এবং তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে বুয়েটের রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও তরুণ প্রকৌশলী বলেন, আইইবি শুধু একটি পেশাজীবী সংগঠন নয়, এটি দেশের প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা ও সম্মানের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নৈতিক অবস্থান এবং প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ডও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা বা চাকরিচ্যুতির তথ্য থাকলে সেটি গোপন না রেখে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে সদস্যদের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা উচিত। এতে ভোটাররা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবেন এবং সংগঠনের নির্বাচনপ্রক্রিয়ার ওপর আস্থা বজায় থাকবে।
ড. রিয়াজ হাসান খন্দকারের প্রার্থিতা ঘিরে আইইবির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের একাংশ প্রার্থীর পেশাগত ও প্রশাসনিক রেকর্ড, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।