
ওয়ার্ল্ড ব্যাংক
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহে বিঘœ এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম আরো বেড়ে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে বিশ্বজুড়ে চার কোটির বেশি মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সর্বশেষ কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের মজুদ কমে যাচ্ছে। ফলে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। একই সাথে শস্য পরিবহনে বিঘœ এবং এল নিনোর প্রভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারে দাঁড়াতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৬৯ ডলার। তবে ২০২৭ সালে তা কমে ৭৯ ডলারে নামতে পারে। খাদ্যপণ্যের দাম চলতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ এবং আগামী বছর আরো ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। দুই বছরে সম্মিলিতভাবে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ১৮ শতাংশে। যুদ্ধের কারণে শস্য সরবরাহে বিঘœ, এল নিনোর প্রভাবে ফসলের ক্ষতি এবং জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। সামগ্রিকভাবে ২০২৬ সালে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়লেও ২০২৭ সালে তা ৭ শতাংশ কমতে পারে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে এবং রাশিয়ার তেল অবকাঠামোর ক্ষতি অব্যাহত থাকলে জ্বালানির দাম পূর্বাভাসের চেয়েও বাড়তে পারে। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, জ্বালানির উচ্চমূল্য, কৃষ্ণসাগরে শস্যবাহী জাহাজে হামলা এবং শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব একসাথে দেখা দিলে বড় ধরনের খাদ্যসঙ্কট তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। খাদ্যপণ্যের দামও পূর্বাভাসের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি হয়ে ২০২২ সালের স্তর ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকের খাদ্যসঙ্কটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, একই সময়ে একাধিক বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে পণ্যের বাজার। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বাণিজ্যিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘœ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যসঙ্কট ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ দিকে সঙ্কট মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার আগাম অর্থায়ন হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে সারের দাম ১৪ শতাংশ এবং ধাতব পণ্যের দাম ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের দাম নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত মূল্যবান ধাতুর দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








