নির্বাচনে হারের পর প্রশাসনে রদবদল আনছেন ট্রাম্প

 সিএনএন, সিবিএস নিউজ ও রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পরপরই হোয়াইট হাউসের প্রশাসনে রদবদল এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও কঠোর নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত করেছেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সিবিএস নিউজের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনে রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন মিলার এতদিন ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সুজি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, যিনি গত বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুজি ওয়াইলস ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিলারকে তার অন্যতম আস্থাভাজন পরামর্শক হিসেবে প্রশংসা করেন এবং এ পরিবর্তনটি আগামীকাল সোমবার থেকে কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও সিনেট- উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এ রদবদল ঘটল। ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় এবং সম্ভাব্য একাধিক আইনসংক্রান্ত তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতিতেই এ সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এ নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট সঙ্কেত দিলেন যে তিনি তার নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবেন না; বরং বিশ্বস্তদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেবেন।
স্টিফেন মিলার দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের কট্টর অভিবাসননীতির মূল কারিগর হিসেবে পরিচিত। 
অভিবাসন ছাড়াও মিলার সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠন, বৈচিত্র্যমূলক কর্মসূচি বন্ধ এবং সরকারি কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও তিনি মেক্সিকো ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী বিমান হামলা ও নৌ অবরোধের মতো কঠোর পদক্ষেপের সমর্থক ছিলেন। ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ স্টিফেন মিলারের এই পদোন্নতিকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক স্পিকার হাকিম জেফ্রিজ। তিনি মিলারকে একজন ‘উগ্র চরমপন্থী’ বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ
সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর দেশটির বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনাকারী দক্ষিণ ফ্লোরিডার মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনস। পদত্যাগ করা অন্য দু’জন হলেন বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিভিশনের প্রধান জন আইজেনবার্গ এবং সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান হারমিত ধিলন। আইজেনবার্গ শুক্রবার এবং ধিলন বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বের চাপের মুখে পদ ছাড়েন কুইনোনস। ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালালেও প্রত্যাশিত বড় কোনো মামলা করতে না পারায় তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের তদারকি ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনায় বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ কুইনোনসের বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে তার নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিনেটের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement