ট্রাম্পের নীতি থেকে সরে নিজের অবস্থান গড়তে ব্যস্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তাহীনতার ধাক্কা সামলাতে ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন রিপাবলিকান শীর্ষ নেতারা। পররাষ্ট্র দফতরে নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অন্য দিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ট্রাম্পের নীতি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন।
গত সপ্তাহে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে। গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে পদত্যাগের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দফতরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি বৈঠক করেন। রয়টার্স চারটি সূত্রের বরাতে জানায়, বৈঠকে রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ সহ্য করা হবে না এবং নিয়ম না মানলে সরাসরি বরখাস্ত করা হবে। এ ছাড়া স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদেশ ভ্রমণের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই নির্দেশনার পরপরই পররাষ্ট্র দফতরের পলিসি চিফ জেরেমি লিউইন পদত্যাগ করেন। অফিশিয়াল সমন্বয় ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে কাজ চালানোর অভিযোগ উঠলেও লিউইন বরখাস্তের বিষয়টি অস্বীকার করে এটিকে পূর্বপরিকল্পিত পদত্যাগ হিসেবে দাবি করেছেন। তবে এটি কেবল একমাত্র ঘটনা নয়; এর আগে গত অক্টোবরে রুবিওর নির্দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করার অভিযোগে গ্লোবাল পার্টনারশিপের বিশেষ প্রতিনিধি পাওলো জামপোলিকেও বরখাস্ত করা হয়েছিল। আগামী জানুয়ারি থেকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেয়া ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত লেনদেন ও সম্পর্কের ওপর তদন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
অন্য দিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর স্পষ্টত কৌশল পরিবর্তন করেছেন। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামার মধ্যে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের রেকর্ডের চেয়ে নিজের অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ ও সুরক্ষানীতির ওপর জোর দেন। নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ভ্যান্স সরাসরি ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সঙ্কট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে রিপাবলিকানদের হারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি এবং ইসরাইলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
ভ্যান্সের এই বক্তব্য তাকে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আগাম দৌড়ে সামনে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও দলের কৌশলবিদদের মতে, ভ্যান্স ট্রাম্পের নীতি সমর্থনের পাশাপাশি নিজেকে স্বতন্ত্র ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। রুবিও বা টেক্সাসের সেনেটর টেড ক্রুজের মতো অন্যান্য রিপাবলিকান নেতারাও হারের কারণ ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান ব্যক্ত করলেও ২০২৮-এর রাজনৈতিক পটভূমিতে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Advertisement

 

 

Advertisement