
রয়টার্স
আসন্ন শীত মৌসুমের আগে ইউক্রেনের জরুরি প্রতিরক্ষা চাহিদা নিশ্চিত করতে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিশেষ বৈঠক করেছে ন্যাটো-ইউক্রেন কাউন্সিল। একই সময়ে ড্রোন হামলা মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে নতুন একটি কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম বা ‘মার্কেটপ্লেস’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দফতরে ন্যাটো-ইউক্রেন কাউন্সিলের এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। বৈঠকে ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে ইউক্রেনের বর্তমান সামরিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা সের্গেই বোয়েভ এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া সের্হি সোবকো। ন্যাটোতে নিযুক্ত ইউক্রেনীয় মিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব অংশীদারকে পূর্ণ মাত্রায় সম্পৃক্ত করা, দ্রুত নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া এবং ইতঃপূর্বে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোকে দ্রুত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ কিংবা অর্থ ছাড়ে রূপান্তর করা এখন অত্যন্ত জরুরি।’
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ১৭ নভেম্বর যুক্তরাজ্য ও জার্মানির যৌথ নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউক্রেন ডিফেন্স কন্টাক্ট গ্রুপের বৈঠকের আগে এই আলোচনাটি ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেনীয় মিশন জানায়, রুশ হুমকির তীব্রতা সম্পর্কে মিত্রদের সর্বশেষ তথ্য দেয়া এবং বর্তমানের লড়াইয়ের পাশাপাশি আগামী বছরের প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরার এটাই উপযুক্ত সময়।
এ দিকে ড্রোন প্রযুক্তির হুমকি মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর আধুনিক সরঞ্জামের জোগান দ্রুত নিশ্চিত করতে বিশেষ এক উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাটো। ‘ড্রোন এজ’ উদ্যোগের আওতায় কাউন্টার-আনম্যান্ড এয়ারক্রাফট সিস্টেমস (সি-ইউএএস) মার্কেটপ্লেস চালু করেছে জোটটি। এর ফলে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো অতিরিক্ত কোনো জটিল দরপত্র প্রক্রিয়া ছাড়াই ন্যাটোর ক্যাটালগ থেকে সরাসরি ড্রোনবিধ্বংসী অস্ত্র ও প্রযুক্তি কিনতে পারবে।
ন্যাটোর তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মিত্র দেশগুলো আগামী পাঁচ বছরে ড্রোনবিধ্বংসী সক্ষমতা বাড়াতে চার হাজার কোটি (৪০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে। একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যাটো কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফরমেশন এজেন্সি (এনসিআইএ) পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬টি প্রযুক্তিগত সমাধান নির্বাচন করেছে। নির্বাচিত এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আল্টা অ্যারিস, অ্যাক্সন এন্টারপ্রাইজ ইনকরপোরেটেড, নর্থরপ গ্রুমেন, ওএসএল ইউকে এবং কোয়ান্টাম সিস্টেমস। আকাশপথের হুমকি মোকাবেলায় এসব সিস্টেম মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি ইতোমধ্যে ইউক্রেনেও মোতায়েন ও ব্যবহার করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








