সবার ওপরে হাসান মাহমুদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক 

Advertisement

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে নতুন ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ। পেস আক্রমণে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরো একবার প্রমাণ করলেন এই ডান হাতি পেসার। শুধু নতুন বলে সুইং করানো নয়, পুরনো বলেও কার্যকর হওয়ার দক্ষতা রয়েছে হাসানের। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখতে তার বোলিংয়ে যেমন বৈচিত্র্য আছে, তেমনি আছে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে গতকাল ছয় উইকেট নিয়ে সেটাই প্রমাণ করলেন তিনি। আর দেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন হাসান। পেছনে ফেলেছেন তিনি শাহাদাত হোসেনকে। 
দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল চার উইকেটে ২৩৫ রান। সেখান থেকে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পেয়েই ঝড় তোলেন হাসান। তিনি একে একে সাজঘরে পাঠিয়েছেন প্রথমে ১৩৩ রান করা আমির জাঙ্গুকে বোল্ড করে, রোস্টন চেককে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করে, বিশপকেও স্টাম্পিংয়ের শিকার বানিয়ে আর সব শেষ শামার জোসেফকে বোল্ড করে ছয় উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই ছয় উইকেটের পথে হাসানের আরেকটি অর্জন হয়েছে। টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তি এখন তার। এর আগে শাহাদাত হোসেনের ছিল চারটি। হাসানের এটি পঞ্চম পাঁচ উইকেটের ইনিংস। পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও আবুধাবিতে পাঁচ উইকেট আগেই নিয়েছিলেন তিনি। বাকি ছিল দেশের মাটিতে এই পূর্ণতা। সিলেটে গতকাল ছয় উইকেট নিয়ে নাথান লায়নের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাঁচ ভিন্ন দেশে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। 
এর আগে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন হাসান। এবারো খুব কাছে গিয়েও দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি পাওয়া হলো না। তবে তার ৯০ রানে ছয় উইকেটের সুবাদে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৫৬ রানে থামাতে সক্ষম হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। 
দিনের খেলা শেষ সংবাদ সম্মেলনে নিজের কাছে এই অর্জনের ওজনের কথা তুলে ধরেন হাসান। ম্যাচের প্রথম দিন দুই উইকেটের সাথে দ্বিতীয় দিন আরো চারটি যোগ করেন হাসান। নতুন বলে পিচ থেকে কিছুটা মুভমেন্ট পেলেও সময়ের সাথে সহজ হয়ে যায় ব্যাটিং। এর মধ্যেও ধৈর্য না হারিয়ে বরং লাইন-লেংথে জোর দেয়ার পুরস্কার পাওয়ার কথাই বললেন হাসান।
হাসান বলেন, ‘সিলেটের উইকেটে আমরা যখন খেলেছি, মুভমেন্ট থাকে, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে। বেশির ভাগ সময় বোলারদের পক্ষে থাকে উইকেটটা। তবে এই উইকেটটা সম্ভবত খুবই ফ্ল্যাট হয়ে গিয়েছিল প্রথম ১-২ ঘণ্টা পরে। ব্যাটিং সহায়ক ছিল আর কী। তবে আমরা ফাস্ট বোলাররা, লাইন নিয়ন্ত্রণে রেখে ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বোলিংয়ের চেষ্টা করেছি। ঘরের মাঠে পাঁচ উইকেট পাওয়া সবসময়ই আমার জন্য খুব স্পেশাল। নিজেদের মাঠে ভালো একটা সুযোগ ছিল, তাই এটি অনেক আনন্দের।’

 

Advertisement