৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজ শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে : গভর্নর

 আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট ব্যুরো

Advertisement

দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজের সুবিধা প্রকৃত উদ্যোক্তারা যেন দ্রুত পান, তা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসের সম্মেলন কক্ষে অংশীজনদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশ দেন।
সিলেটের স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আঞ্চলিক প্রধান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতারা, নারী উদ্যোক্তা এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গভর্নর এই অর্থায়ন প্যাকেজের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংক ঋণের ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সাধারণ সুদের হার ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি বড় চাপ। এই চাপ থেকে উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে এবং থমকে যাওয়া শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে ৪ থেকে ৮ শতাংশের মতো বিশেষ কম সুদে এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ সরবরাহ করা হচ্ছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, এই বৃহৎ প্যাকেজের ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৪১ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে জোগান দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বন্ধ শিল্প পুনর্গঠনে। এ ছাড়া কৃষি ও পল্লী অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বেকার যুবসমাজকে দেশের মূল অর্থনৈতিক ধারায় যুক্ত করতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘চলতি মাস (নভেম্বর) থেকেই ‘উদ্যোগ’ নামের একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট পাঁচ হাজার তরুণকে বাছাই করে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যাংক বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা হস্তক্ষেপ থাকবে না।’
প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার বিষয়ে তিনি জানান, ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষকরা এখন থেকে প্রথাগত জমির দলিলের পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহার করে সহজেই ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন।
ঋণ বিতরণে কড়া বার্তা দিয়ে গভর্নর বলেন, ‘প্রকৃত ও যোগ্য উদ্যোক্তাদের ঋণ নিশ্চিত করা হবে। তবে চলতি বছরের মধ্যে সুযোগ পাওয়ার পরও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করবে না, আগামী বছর থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এই প্যাকেজটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে ২৫ লাখের বেশি মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমদের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং রেগুলেশন পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক সালাউদ্দিন তাপাদার।
আলোচনায় আরো অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক নওশাদ মোস্তাফা ও আব্দুস সালাম মাহমুদ, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাবেত নাঈম চৌধুরী, সানজিদা খাতুন, হিজকিল গুলজার, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, আলিমুল এহসান চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল হাকিম ও প্রফেসর ড. শহিদুল হক এবং নারী উদ্যোক্তা অনিতা দাশ গুপ্তা প্রমুখ।

 

Advertisement