মাদক বিক্রিতেও কিউআর কোড

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কিউআর কোডের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে মাদক। প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তির সহায়তায় টেলিগ্রাম গ্রুপে কিউআর কোড ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। দেশের অলিগলি থেকে শুরু করে নামিদামি রিসোর্টেও পাওয়া যাচ্ছে ভয়ঙ্কর এলএসডিসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। 
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো: হাসান মারুফ। তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকের বিস্তার ঘটছে নতুন নতুন কৌশলে। এবার রিসোর্টেও মিলছে এলএসডি ও নতুন ধরনের মাদক। গাজীপুরের একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে এলএসডিসহ নতুন ধরনের কয়েকটি মাদক পাওয়া গেছে। এসব মাদকের মধ্যে পলি ও এমএমডিবি নামের পদার্থও ছিল। এ ছাড়া থাইল্যান্ড থেকে আসা টিএইচসি-সমৃদ্ধ গাঁজার একটি চালান বিমানবন্দরে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদককারবারীরা এখন প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। টেলিগ্রাম গ্রুপে কিউআর কোড ব্যবহার করে মাদক বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের চক্র শনাক্তে কাজ করছে অধিদফতর। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিএইচসি-সমৃদ্ধ তেল বিক্রির ঘটনায় মামলাও করা হয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান ও আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে সন্তানদের বন্ধুমহল, চলাফেরা, ধূমপানের অভ্যাস এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।
ডিজি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, দীর্ঘ সীমান্ত, জনসংখ্যা ও বেকারত্বের মতো বিষয় মাদক নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলেছে। গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থানের কারণেও দেশটি মাদক পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে।
মাদক কারবারের সাথে অস্ত্র ব্যবসা ও মানবপাচারের যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সেমিনারে ‘মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ সেøাগানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোচিকিৎসাবিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো: মুন্না হুসাইন এবং ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম।

 

Advertisement