চ্যাম্পিয়নের মতোই শুরু ভারতের

ক্রীড়া প্রতিবেদক 

Advertisement

২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাফ ফুটবল। সেই আসরের প্রথম ম্যাচেই ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল পাকিস্তান। এবারের সাফে অংশ নিতে আসার আগে আসিয়ান কাপে দুর্দান্ত খেলেছিল এখনো সাফের শিরোপা জিততে না পারা দলটি। আসিয়ান কাপে তারা ২-২ গোলে ড্র করেছিল শক্তিশালী ফিলিপাইনের সাথে। অন্য দিকে ভারত তাদের মূল দল নিয়ে আসতে পারেনি। মূল দল ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের সাথে। তাই অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলারদের নিয়ে দ্বিতীয় সারির জাতীয় দল নিয়ে ঢাকায় আসা। তাই অনেকেরই ধারণা ছিল এবার জাতীয় স্টেডিয়ামে ২৩ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে পাকিস্তান। তবে হয়েছে উল্টো। ৩২ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত। যদিও ইনজুরি টাইমে ২ গোল পরিশোধ করে পাকিস্তান। এতে খেলা শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-২। আসলে ভারতীয় ফুটবলের দ্বিতীয় জাতীয় দলও যে শক্তিশালী, সেটা আগেই জানান দিয়েছিল। তা ২০০৯ সালে এই ঢাকাতেই তারা সাফ জিতেছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে। গতকাল এবারের টেকনো সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে জিতে দশম সাফ শিরোপা জয়ের বার্তা দিয়ে দিয়েছে ভারত। 
পাকিস্তান আসলে তাদের মূল দল নিয়ে এই ম্যাচ খেলতে পারেনি। তাদের বিদেশী লিগে খেলা কয়েক খেলোয়াড় আসতে পারেনি। ফিফা উইন্ডোতে গতকালের খেলাটি পড়েনি। তাই ছাড়েনি তাদের ক্লাব। এ ছাড়া পরশু তারা অনুশীলনও করতে পারেনি প্র্যাকটিস সামগ্রী দলের সাথে একই ফ্লাইটে না আসায়। এসবেরই প্রভাব পড়েছে মাঠে। তার ওপর ভারতীয় খেলোয়াড়দের স্কিল, গতির সাথে কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। সাথে যোগ হয়েছে ডিফেন্সে ভুল। এতেই তারা প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়। 
ভারতীয় দল শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। গোলেরও সুযোগ আসে। প্রথমে গোলের দেখা না পেলেও ১৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়া। মুহাম্মদ সুহাইলের কাট ব্যাক থেকে ডান পায়ের প্লেসিংয়ে গোল করেন সুহাইল আহমেদ ভাট। ১৯ মিনিটে স্কোর দ্বিগুণ। এবার অভিষেক ধনাঞ্জয়ের থ্রু পাস থেকে আগুয়ান গোলরক্ষক ইউসুফ ইজাজ ভাটকে দারুণ এক প্লেসিং শটে পরাস্ত করেন সুহাইল আহমেদ ভাট। ৩২ মিনিটে স্কোর ৩-০ করেন মানগেলেন থাং কিপগেন। নওশাদের পাস থেকে গোলটি করেন তিনি। 
৩৪ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায় পাকিস্তান। বক্সে মোহাম্মদ হায়ান কাটাককে ফাউল করেন ভারতের অভিষেক। রেফারির দেয়া পেনাল্টি থেকে শট নেন গত বছর ব্রাদার্সে খেলা স্ট্রাইকার শায়েক দোস্ত। তবে তার শট যায় বার উঁচিয়ে। ৩৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক মিস করেন সুহাইল আহমেদ ভাট। তার শট যায় বারের ওপর দিয়ে। 
বিরতির পরও ছিল ভারতের দাপট। ৫৩ মিনিটে  কিপগেনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর ৫৯ মিনিটে এডিসন সিংহের শট রুখে দেন পাকিস্তানি কিপার। তবে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ভারতীয়দের গা ছাড়া ভাবের সুযোগে জ্বলে উঠে পাকিস্তান। ৮৩ মিনিটে নজীবুল্লাহ ভারতের গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল মারেন তার গায়ে। অবশ্য এই নজীবুল্লাহই ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে জালের দেখা পান। ৯১ মিনিটে অ্যারন আবদুল্লাহর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন তিনি। এরপর ৯৪ মিনিটে ব্রাদার্সে খেলে যাওয়া আলমগীর আলী খান গাজী দর্শনীয় সাইড ভলিতে গোল করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। আবদুল্লাহর ক্রস থেকে বল পেয়ে সে বল রিসিভ করার পর হাওয়ায় ভাসা বলেই ডান পায়ে সাইড ভলি নেন তিনি। তবে এর পরপরই রেফারি খেলা শেষের বাঁশি বাজালে হারের কষ্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পাকিস্তানকে। আর তাতে ভারত প্রথম ম্যাচ জিতেই ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমির পথে এগিয়ে গেল।