কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলেও ট্রাম্পের ভেটো বাতিলের ক্ষমতা পায়নি ডেমোক্র্যাটরা

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সর্বশেষ প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে অন্তত ২৪০টিতে জয় পেয়েছে দলটি। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১৪৭টি আসন। অন্যদিকে সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে গেছে অন্তত ৫৪টি এবং রিপাবলিকানদের ৪৪টি। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৮টি ও সিনেটের দু’টি আসনের ফল তখনো ঘোষণা করা হয়নি। চূড়ান্ত গণনায় ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে নির্বাচনে বড় জয় পেলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করার মতো দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকছে। খবর আলজাজিরা, সিএনএন, রয়টার্স ও এপির।
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের সাতটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদেও অন্তত ৩১টি আসনে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটিয়েছে দলটি। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের বিজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফ্লোরিডা বিশ^বিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাবের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ২৭ লাখ ভোট গণনা করা হয়েছে। ভোট দেয়ার যোগ্য জনগোষ্ঠীর ৪৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। গত এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এর চেয়ে সামান্য বেশি ভোটার অংশ নিয়েছিলেন।
নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি ছিল মেইনে, ৬৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এরপর মিনেসোটায় ৬৫ দশমিক ১৬ এবং মিশিগানে ৬৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় সবচেয়ে কম ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছেন। ওকলাহোমা ও হাওয়াইয়েও ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।
নিবন্ধিত প্রায় ২১ কোটি ভোটারের মধ্যে নির্বাচনের আগেই পাঁচ কোটির বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় তিন কোটি সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে এবং দুই কোটি ৪০ লাখ ডাকযোগে ভোট দেন।
এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে বাধা দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নেতৃত্বও থাকবে তাদের হাতে। ফলে আগামী দুই বছর হোয়াইট হাউজ ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে। কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে তিনি ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো বাতিল করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, যা ডেমোক্র্যাটদের নেই।
ফলে নির্বাচনী বিজয়ের পরও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।