আদালত প্রাঙ্গণে বেপরোয়া পরীমণি
আদালত প্রাঙ্গণে বেপরোয়া পরীমণি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। সাংবাদিকদের হেনস্তা, মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার পাশাপাশি অনেকের হাতে থাকা ফোন কেড়ে নিয়ে ট্রাইপড ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার দেহরক্ষীদের ধাক্কায় আহত হয়েছেন একজন বিচারপ্রার্থী। গতকাল সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসব ঘটনা ঘটে। পরীমণির আদালতে আসাকে কেন্দ্র করে এ সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে সকালে আদালতে যান পরীমণি। এ সময় সাংবাদিকরা তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। অকথ্য ভাষা ব্যবহার, মাইক্রোফোন টেনে নেয়া থেকে শুরু করে এক সংবাদকর্মীকে খামচি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পরীমণির দেহরক্ষীদের ধাক্কায় আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকরা ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে গেলে তাদের সাথে যখন পরীমণির দেহরক্ষীরা ধাক্কাধাক্কি করছিলেন, সে সময় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামের ওই বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়। এ সময় তার মাথা থেকে রক্ত ঝরতেও দেখা যায়।
এ বিষয়ে সুজন চন্দ্র মনি দাসের ভাই এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা আদালতে এসেছিলাম। এখানে (বারান্দায়) দাঁড়িয়ে ছিলাম। নায়িকা পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীরা ধাক্কা দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।’
কিছু ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আদালতে প্রবেশের সময় পরীমণির সাথে ছিলেন হাফ ডজনেরও বেশি দেহরক্ষী। আদালতের কাজ শেষে গাড়িতে ওঠার সময় দেহরক্ষীরা পরীমণিকে ঘিরে রেখেছিলেন। এমন সময়ে সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে পরীমণি ও তার দেহরক্ষীরা দাবি করেন, পরীর গায়ে হাত দিয়েছেন এক সাংবাদিক। সেই সাংবাদিককে ডেকে, টেনে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি ও হুমকিও দেন অভিনেত্রী।
এক সাংবাদিকের অভিযোগ, পরীমণি তার হাত থেকে ফোন কেড়ে নেন। পরবর্তী সময়ে পরীমণির হাত থেকে সেই সাংবাদিক নিজের ফোন ফিরিয়ে নেন। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘লিফটে ওঠার সময় আমাকে ভিডিও করতে দেখে পরীমণি আমার ফোন কেড়ে নেন। এ সময় ট্রাইপডও ভেঙে ফেলেন।’ এ দিকে অপর একটি ভিডিওতে অন্য এক সাংবাদিক নিজের ক্ষতবিক্ষত হাত দেখিয়ে দাবি করেন, পরীমণি তাকে ‘খামচি’ দিয়েছেন। আদালত প্রাঙ্গণে এসে এমন অপরাধমূলক আচরণ করেছেন পরীমণি, এমনটাই দাবি করছেন তারা।
প্রসঙ্গত, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ২০২১ সালে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিন পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য গত বুধবার দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন আদালতে হাজির হননি পরীমণি। তার আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করলেও তা গ্রহণ করেননি আদালত; বরং অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এরপর গতকাল শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

 

Advertisement