
সঞ্জয় ব্যানার্জী দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা সরকারি আবদুর রশিদ তালুকদার কলেজের কারিগরি শাখার ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো: আনিচুর রহমানের বিরুদ্ধে রেজুলেশন জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে প্রায় আট বছর ধরে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হলেও নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা।
কলেজ সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩০ জুন বেসরকারি আমলের সর্বশেষ রেজুলেশনের স্বাক্ষর জাল করে ডুপ্লিকেট রেজুলেশন তৈরির মাধ্যমে ২০১৯ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নেন আনিচুর রহমান। এ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর মাউশির তদন্তে পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষককে তিন মাসের ‘স্টপ পেমেন্ট’ শাস্তি দেয়া হয়। পাশাপাশি আনিসুর রহমানের বেতন প্রভাষক পদ অনুযায়ী নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশ দেয়া হয়।
মাউশির ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির স্মারক এবং একই বছরের ২৮ ডিসেম্বরের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অর্থ ফেরত নেয়া হয়নি। এমনকি ২০২৫ সালের আগস্ট ও ২০২৬ সালের জানুয়ারির অডিট প্রতিবেদনেও একই নির্দেশনা দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।
কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো: মাহমুদুল্লাহ বলেন, দুদক ও মাউশির তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত এবং অডিট প্রতিবেদনে অর্থ ফেরতের সুপারিশ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল হক বিধি অনুযায়ী দ্রুত এ অনিয়মের নিষ্পত্তি ও টাকা ফেরত চান।
অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক আনিচুর রহমান বলেন, কারিগরি শিাক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই করে তাকে বৈধভাবেই পদোন্নতি দিয়েছে। বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক গাজী সবুজ আহমেদ বলেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দেয়া হয়েছে মর্মে চিঠি পাওয়া গেছে। অডিট আপত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক জবাব দিয়ে তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
মাউশির বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো: জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি জানা নেই এবং খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








