
মনিরুজ্জামান সুমন দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়েই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, স্বাক্ষরে অসঙ্গতি এবং স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে ৩০০ টাকা করে নিয়ে প্রাইভেট পড়ানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: জাকির হোসেনের সহযোগিতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর সহকারী শিক্ষিকা মোছা: শিরিনা খাতুন বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়েই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলে শিক্ষার্থীরা জানায়। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, শিরিনা সকালে বিদ্যালয়ে এসে স্বাক্ষর করে জরুরি কাজে বাড়ি চলে যান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সাথে এ দাবির অসঙ্গতি তুলে ধরলে প্রধান শিক্ষক সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। শিক্ষিকা শিরিনা খাতুন দাবি করেন, তিনি রোববার সকালে বিদ্যালয়ে এসে স্বাক্ষর করে প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে বাড়ি চলে যান। তবে তাড়াহুড়োর কারণে স্বাক্ষরে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
এ দিকে সহকারী শিক্ষক মো: জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর প্রায় ৩০ শিক্ষার্থীকে মাসিক ৩০০ টাকা করে প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে জানা যায়। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক জামিল হোসেন বলেন, স্কুলের বেতনে সংসার চালানো কঠিন। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান বাড়ার পাশাপাশি তারও কিছু আর্থিক সুবিধা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা তাসলিমা নাসরিন বলেন, বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানো নিষিদ্ধ। উপস্থিত না হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করাও গুরুতর অপরাধ। প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতার অভিযোগসহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








