ব্রাহ্মণপাড়ায় খাসজমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ
ব্রাহ্মণপাড়ায় খাসজমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ।

এইচ এম গোলাম কিবরিয়া রাকিব ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা)

Advertisement

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাইঘর গ্রামে সৌদি আরব প্রবাসীর বাড়িতে যাতায়াতের পথ ও সরকারি খাসজমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সরকারি খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত নাজমুল হাসান উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক। তিনি নাইঘর গ্রামের মৃত নোয়াব মুহুরীর ছেলে। অন্য দিকে ভুক্তভোগী সৌদি আরবপ্রবাসী আজাদ হোসেন ও তার ভাই কামাল হোসেন একই গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে।
সরকারি নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাইঘর মৌজার ৪২৩ নম্বর দাগের এক নম্বর খাস খতিয়ানের জমি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আজাদ ও কামালের পরিবার চলাচল করে আসছে। তাদের দাবি, ৪২০ ও ৪২১ নম্বর দাগের পূর্বাংশ দিয়ে খাল প্রবাহিত হওয়ায় বাড়িতে যাতায়াতের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। এ অবস্থায় খাসজমি দখলমুক্ত করে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে কামাল হোসেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্রাহ্মণপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পাঠানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে যাতায়াতের পথ ও সংলগ্ন খাসজমিতে নাজমুল হাসান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক হয়। সালিসকারীদের মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ও আলী আকবরসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছিলেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সালিসের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়। পরে ঘরটিতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছবি সংবলিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ সাইনবোর্ড লাগিয়ে সেটিকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ঘরটি সরানোর বিষয়ে চাপ এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে নাজমুল হাসান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। ঘরে লাগানো সাইনবোর্ড কে বা কারা খুলে নিয়েছে, তা তিনি জানেন না। তবে সেখানে আবারো সাইনবোর্ড লাগাবেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এর আগে ওই কার্যালয়ে বসেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনী ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

 

Advertisement