
নবীন চৌধুরী ধামরাই (ঢাকা)
ঢাকার ধামরাইয়ে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ২৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের উড়াল সড়ক, বাইপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণকাজ। তিন বছর আগে কাজ শুরু হলেও কাওয়ালীপাড়া বাজারে উড়াল সড়কের মাত্র চারটি পিলার নির্মাণের পর বন্ধ রয়েছে কাজ। একই কারণে আটকে আছে সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস লেন নির্মাণ। এতে যানজট নিরসনের পরিবর্তে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষের।
সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর থেকে কাওয়ালীপাড়া হয়ে দ্বিমুখা বাজার পর্যন্ত ভায়া টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রকল্পের আওতায় কাওয়ালীপাড়া ও মহিশাষী বাজারে চার লেনের সড়ক ও উড়াল সড়ক, কালামপুরে সড়ক সরলীকরণ ও বাইপাস, মহিশাষীতে আন্ডারপাস এবং সাটুরিয়া এলাকায় সড়ক সোজা করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতায় এসব কাজ দীর্ঘ দিন ধরে আটকে আছে। বর্তমানে মূল সড়ক প্রশস্ত করার কাজ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।
জানা যায়, ২০২৩ সালের শেষ দিকে কাওয়ালীপাড়া বাজারে উড়াল সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে কাজের গতি ভালো থাকলেও চারটি পিলার নির্মাণের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উড়াল সড়কের মূল কাঠামো দৃশ্যমান হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক, বাইপাস ও সার্ভিস লেন নির্মাণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
এ দিকে নির্মাণকাজের কারণে সড়কটি আরো সঙ্কুুচিত হয়ে পড়েছে। কাওয়ালীপাড়া ও মহিশাষী বাজার এলাকায় সড়কে রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। তখন চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালু এবং যানবাহনের চাপে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। এতে যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
কাওয়ালীপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় তিন বছর ধরে নির্মাণকাজ চললেও চারটি পিলার ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। যানজটের কারণে ক্রেতারা বাজারে আসতে চান না। জরুরি রোগী নিয়ে চলাচলেও মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা।
সিএনজিচালক রাসেল মিয়া বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন যানজট ও ধুলাবালুর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটি গাড়ি থামলেই পেছনে সারি সারি যানবাহন আটকে যায়। রোগী নিয়ে এ অবস্থায় পড়লে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়ারহাট শাখা সূত্রে জানা যায়, ২৪ কিলোমিটার সড়ক ও উড়াল সড়ক নির্মাণে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৬ কোটি টাকা। উড়াল সড়কের মূল কাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় অ্যাপ্রোচ সড়ক, বাইপাস ও সার্ভিস সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চলমান রয়েছে। দ্রুত অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে জমি বুঝে পাওয়া গেলে বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নয়ারহাট শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, উড়াল সড়কসহ পুরো প্রকল্পের জন্য ২৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। উড়াল সড়কের দুই পাশে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। শিগগিরই জটিলতা নিরসন করে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ সমাপ্ত করা হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








