
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সাথে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের দলীয় প্রভাব ও বৈষম্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এসব দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। তবে পিএসসিসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রবণতা, নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ সেই মূল আকাক্সক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি পিএসসিকে স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত রাখতে তিনটি পৃথক কমিশন পুনর্গঠনের প্রস্তাব জানান। এতে সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বাছাই কমিটির মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাঁচ বছরের জন্য চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের নেতৃত্বাধীন কমিশনের নেয়া কোডভিত্তিক লিখিত খাতা মূল্যায়ন, ভাইভার নম্বর ১০০ রাখা, ডিজিটাল প্রেসে প্রশ্নপত্র ছাপা এবং ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতিসহ সংস্কার উদ্যোগগুলো বহাল রাখার দাবি জানান তিনি। একই সাথে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মোবাশ্বের মোনেমসহ অন্য সদস্যদের পদত্যাগের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে এক হাজার ২০০ জনের বেশি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র না দেয়া এবং ৪৫তম বিসিএসে ৫৬ জন ও ৪৯তম বিসিএসে ৫৭ জন প্রার্থীকে বাদ দেয়ার বিষয় তুলে ধরা হয়। রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ছাড়া সুপারিশপ্রাপ্তদের বাদ দেয়া নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন শিবিরের নেতারা।
সংগঠনটির পেশ করা ১৩ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জুলাই সনদ অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার, নবম ও দশম গ্রেডের সব সরকারি নিয়োগ পিএসসির অধীনে আনা, মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ বন্ধ, নিয়োগের বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ এবং সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা। এ ছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসে সম্পন্ন করা, নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে প্রার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া, ভাইভায় অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধের তাগিদ দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








