শিল্পকারখানায় অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগের উসকানি : রিজভী
চট্টগ্রাম নগরীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রাপূর্ব গণজামায়েতে বক্তব্য রাখেন রহুল কবির রিজভী : নয়া দিগন্ত।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Advertisement

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আশ্বাস দেয়ার পর প্রকৃত শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ালেও একটি পক্ষ উসকানি দিয়ে শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, পুলিশের গাড়ি ও বক্সে অগ্নিসংযোগের মতো সাম্প্রতিক সহিংসতার পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউরিতে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশ শেষে কাজীর দেউরি থেকে শুরু হয়ে একটি র‌্যালি জামালখানে গিয়ে শেষ হয়।
রিজভী বলেন, আওয়ামী শাসনামলে ব্যাংক লুটপাট, ভয়াবহ দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো ঘটনা ঘটেছে। সেই লুটেরা রাজনীতি আবারো ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে দেশের মানুষ আর সেই অন্ধকার পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র বজায় রাখতে দেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ।
৭ নভেম্বরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সিপাহি-জনতার ঐক্যের চেতনা থেকেই দেশবাসী সাহস ও শক্তি পায়। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। পরবর্তীতে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়, যাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এগিয়ে নিয়ে যান। এই চেতনা ১৯৮০-এর দশকের এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও দিশারি হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যেই দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সাঈদ আল নোমান এমপি, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা: শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।