
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে আজ দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সকাল সাড়ে নয়টায়।
ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৮ উইকেটে হার স্বাগতিকদের। এতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে যাবার স্বপ্নে বড় ধাক্কা লাগে বাংলাদেশের। সিলেটে জিততে পারলে শুধু সিরিজে সমতা ফেরানোই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন অ্যাওয়ে সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসও ফিরে পাবে বাংলাদেশ। অপরদিকে সিরিজ জয় নিয়েই নিজ দেশে ফিরতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুর টেস্ট জিতে সিলেটে আত্মবিশ^াসি ড্যারেন সামির দল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে স্পিননির্ভর কৌশল নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ঢাকার টেস্টে সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লাগে। প্রায় সব বিভাগেই বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে ভালো করেছেন সফরকারী স্পিনাররা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের পুনর্জাগরণ এবং বিভিন্ন কন্ডিশনে পেসারদের ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্পিননির্ভর কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যে কারণে সিলেটে স্পিননির্ভরতা থেকে সরে এসে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
সিলেটের উইকেটে সাধারণত ম্যাচের শুরুতে পেসাররা সুবিধা পান। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে স্পিনাররা কার্যকর হয়ে ওঠেন। এই মাঠে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিনটিতে জয় এবং তিনটিতে হেরেছে তারা। ২০১৮ ও ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দু’টি ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে স্বাগতিকরা। তবে এই মাঠে সর্বশেষ দু’টি টেস্টে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
একজন স্পিনারের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেতে পারেন তাসকিন আহমেদ কিংবা সিলেটের স্থানীয় ছেলে এবাদত হোসেন চৌধুরী। মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হক দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন। মুমিনুলের পরিবর্তে দলে ডাক পাওয়া অমিত হাসানও একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। এনসিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। প্রথম শ্রেণীর সর্বশেষ দুই ইনিংসে একটি ডাবল সেঞ্চুরির পর ৯৪ রানের ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটার। তার মতে, উইকেটটি স্পোর্টিং। পিচে কিছুটা ঘাসও রয়েছে, যা পেসারদের সহায়তা করতে পারে। প্রথম টেস্টে খেলতে না পারা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীমের ফেরার সম্ভাবনায় স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে।
চলমান সিরিজের প্রথম টেস্টসহ বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন পর্যন্ত ১১টি টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে দু’টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে আটটি সিরিজ। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে। দুই দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩টি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটিতে জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে ১৬টিতে। বাকি দু’টি ড্র হয়েছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে সর্বশেষ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তারা চলতি বছর কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি।
চলমান ডব্লিউটিসি চক্রে এটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ টেস্ট। তাই ইতিবাচকভাবে সফর শেষ করতে এই টেস্টেও জয় ভিন্ন অন্য কিছুই ভাবছে না ক্যারিবীয়রা। দলটির ব্যাটিং কোচ রেইফার বলেন, ‘ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভালো পারফরম্যান্স করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, ঢাকায় ভালো খেলেছি। এখানে এসেও ভালো খেলতে হবে। একটি ম্যাচে প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংস থাকে। ইনিংসের শুরু কিভাবে করতে হবে, কিভাবে ইনিংস গড়ে তুলতে হবে এবং কখন আমরা নিয়ন্ত্রণে রয়েছি- এসব বিষয় বুঝে খেলতে হবে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








