অনিয়ম পেলে সার ডিলারশিপ বাতিল কর্মকর্তা জড়িত থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

সার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কৃষক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একই সাথে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
গতকাল সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন রবি মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের সব জেলার জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালকরা অনলাইনে যুক্ত হন।
মন্ত্রী বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের লাইসেন্স দেয়ার পাশাপাশি তাদের ডিলারশিপ এলাকা সুনির্দিষ্ট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ, কৃষকের সংখ্যা ও ফসলের নিবিড়তা বিবেচনায় নিতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ডিলারের দোকানে মূল্যতালিকা ও মজুদের তথ্য প্রদর্শন করতে হবে। কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দাম আদায়, মজুদদারি এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সার পাচারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। প্রকৃত কৃষকের কাছে ন্যায্যভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড ও কৃষকের তালিকা ব্যবহারের নির্দেশনাও দেন তিনি।
আসন্ন রবি মৌসুমে সারের বরাদ্দ ও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, অতীতের তুলনায় এ বছর চাহিদার চেয়েও বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। নতুন কোনো ফসলের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। এরপরও চাহিদা বাড়লে তা মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সার পাচার রোধে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু এলাকায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় এসব সার পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। আবার কোথাও ইউরিয়ার সঙ্কট থাকায় বাংলাদেশ থেকেও ইউরিয়া পাচার হতে পারে। কোনো অবস্থাতেই দেশের সার দেশের বাইরে যেতে দেয়া যাবে না।
মন্ত্রী বলেন, সারে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির সুফল যেন প্রকৃত কৃষক পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। এক দিকে সারের সঙ্কটের অভিযোগ, অন্য দিকে গুদামে বিপুল পরিমাণ সার মজুদ কিংবা পাচারের ঘটনা থেকে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো জেলায় সার নিয়ে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের জবাবদিহি করতে হবে।
কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সার পান, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় পরিস্থিতি, পরিবেশ ও প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃত্রিম সঙ্কট ও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
ইউরিয়া সার শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন কৃষিমন্ত্রী। বিশেষ করে বস্ত্র ও ডাইং কারখানায় ইউরিয়া ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য জেলা পর্যায়ের সার মনিটরিং কমিটিকে নিয়মিত সভা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন তিনি।