
আতিয়ার রহমান জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় শুরু হয়েছে মাল্টি ক্রপস মিনি সিডার মেশিনের মাধ্যমে ভুট্টা বপনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় কম সময়ে, কম বীজ ও কম খরচে ভুট্টা বপন করতে পেরে এ প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, মাল্টি ক্রপস মিনি সিডার মেশিনের সাহায্যে ভুট্টা, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ধরনের বড় বীজ নির্দিষ্ট দূরত্ব ও সারিতে বপন করা যায়। মেশিনটির মাধ্যমে এক বিঘা জমিতে ভুট্টা বপন করতে সময় লাগে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মিনিট। এ কাজে পেট্রোল খরচ হয় প্রায় আধা লিটার। সিমিট বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতায় আবেদন ইকুইপমেন্ট কোম্পানি মেশিনটি বাংলাদেশে বাজারজাত করছে।
জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবারই প্রথম তিনি বিএডিসির পাইওনিয়ার কোম্পানির ভুট্টার বীজ দিয়ে মেশিনের সাহায্যে দুই বিঘা জমিতে ভুট্টা বপন করেছেন। এতে তার সময়, বীজ ও অর্থের সাশ্রয় হয়েছে। নিজের জমিতে মেশিনের কার্যকারিতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও এ পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে মেশিনের মাধ্যমে বীজ বপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক আনারুল কবির, মিজানুর রহমান ও রেজাউল করিম বলেন, তারা আগামীতে মেশিনের মাধ্যমে ভুট্টা বপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ,প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সময়, বীজ ও অর্থের ব্যয় কম হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
গত রোববারর জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর মাঠে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে এ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভুট্টা বপন কার্যক্রম শুরু হয়। প্রদর্শনী প্লটে মেশিনের মাধ্যমে ভুট্টা বীজ বপন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) যশোর আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো: জাকারিয়া হাসান, এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট অফিসার খন্দকার আবুল খায়ের, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এবং মেশিনারি ডেভেলপমেন্ট অফিসার আ ন ম আরিফুর রহমান।
কৃষি উদ্যোক্তা রাজেদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কৃষিতে শ্রমিক সঙ্কট ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা ক্রমেই আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। ভুট্টা চাষেও এ ধরনের যন্ত্রের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ভুট্টা বপনে তুলনামূলকভাবে সময়, শ্রম ও বীজ বেশি প্রয়োজন হয়। অন্য দিকে মেশিনের মাধ্যমে বপন করলে এসব ব্যয় কমানো সম্ভব। তবে কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারিভাবে ভর্তুকি দেয়া হলে কৃষকেরা আরো বেশি উৎসাহিত হবেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিতে শ্রমিক সঙ্কট মোকাবেলা, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো ফসলের বীজ বপনে আধুনিক কৃষিযন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ প্রযুক্তির প্রকৃত কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিরূপণে বিভিন্ন জমিতে এর ব্যবহার, ফলন এবং সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় পর্যবেণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষকদের ক্রয়মতার মধ্যে যন্ত্রটির মূল্য নিশ্চিত করা গেলে জীবননগরসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এর ব্যবহার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ভুট্টা চাষে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের প থেকে বিভিন্ন মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের এ বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








