গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ভারত গঙ্গা চুক্তি নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ভারতের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনাটি ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। যে চুক্তিটি এ বছর  মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে, সেটি আবার নবায়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি ৩০ বছর মেয়াদি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, যা পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা ব্যারাজে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদীর পানির বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে। আগামী ১২ ডিসেম্বর এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ- উভয় দেশেই সংশোধিত শর্তাবলি, পানির প্রাপ্যতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি হবে, নাকি বিদ্যমান চুক্তি নবায়ন করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি এবং দেশের মানুষের পানির প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়া হবে। পানিসঙ্কটের সমাধানে ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ ও মানুষের পানির চাহিদা বিবেচনায় রেখেই ভারতের সাথে আলোচনায় এগোবে সরকার।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সাথে আমাদের মিশন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। আমরা আশা করি, শিগগিরই সেখান থেকে কোনো তথ্য জানতে পারব। কাজ চলছে, তবে সময় লাগছে। আশা করি, সৌদি সরকারের কাছ থেকে দ্রুত কিছু খবর পাব।
সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক যাবেন : প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন তুরস্ক সফর এবং বিশ্ব জলবায়ুু সম্মেলনে (কপ-৩১) বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুবই স্বল্প সময়ের জন্য তুরস্ক সফর করবেন। সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের দুই দিনের অধিবেশনে তিনি অংশ নেবেন। বিশ্ব জলবায়ুু সম্মেলনে বাংলাদেশ দু’টি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে বাংলাদেশ এবং এ অঞ্চলের মানুষের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হবে। একই সাথে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তার ওপর আলোকপাত করা হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু তহবিল যেন ঋণ নয়, অনুদান হিসেবে দেয়া হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণে বড় দেশগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ।
প্রসঙ্গত, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তুরস্কের আনতালিয়া শহরে কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হবে। গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়েছিল।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক ব্রিটেন ও স্পেন সফরকে ফলপ্রসূ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই সফরগুলো বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ুবিষয়ক সহযোগিতা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করেছে।

Advertisement