
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। শ্রমিকদের দাবিকে পুঁজি করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সহিংসতা সৃষ্টি করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলে নাশকতা প্রতিরোধ ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি মাঠে নামতে শুরু করেছে। এতে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে।
গতকাল সোমবার ভোরে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে বের হওয়া মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি নেতা সরকার শাহনূর ইসলাম রনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন ও দাবিদাওয়ার প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কেউ নাশকতা বা সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো মূল্যে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
অপর দিকে বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজের নেতৃত্বে মহানগরীর ভোগড়া বাইপাসসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আওয়ামী নাশকতাবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ দিকে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী শ্রমিকদের সাথে মিশে আন্দোলনকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন ভুয়া ও বেনামি ফেসবুক আইডি থেকে উসকানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগও উঠেছে। গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়লের নামেও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত রোববার গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় দীপ্ত টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরাসহ ব্যাগে থাকা মালামাল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে। একই দিন সংঘর্ষে পুলিশের আট থেকে ১০ জন সদস্য আহত হন বলে জানান শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার। কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশের বক্সে আগুন দেয়া এবং আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
এ দিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিকে সমর্থন জানিয়ে আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মো: সালাহ উদ্দিন সরকার। তিনি শ্রমিকদের বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং কোনো উসকানিতে পা না দেয়ার আহ্বান জানান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








