
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা
ভেষজ ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ দেশীয় ফল আমলকী চাষে গাজীপুরের কালীগঞ্জে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকরা। বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় আমলকী চাষে এবার চাষিদের আগ্রহও বাড়ছে।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে আমলকীর চাষ হয়েছে। সংরক্ষণ ও বিপণনব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এ ফল চাষে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরো বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচা আমলকির পাশাপাশি শুকনো আমলকী, আচার, মোরব্বা ও গুঁড়া বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা আমলকী ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুকনো আমলকীর দাম আরো বেশি। ভেষজ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রামাঞ্চল থেকে পাইকারি দামে আমলকী কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামের এক আমলকী বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরেছে। বাগানের মালিক সেবক পাল জানান, প্রায় পাঁচবিঘা জমিতে তার ছোটবড় ২৫০টি আমলকী গাছ রয়েছে। এ বছর ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টাকার আমলকী বিক্রি করেছেন। বাগানে থাকা অবশিষ্ট ফল আরো প্রায় পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
সেবক পাল বলেন, আমলকী গাছের তেমন বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। সামান্য যতেœই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে সরকার সংরক্ষণ ও বিপণনে সহায়তা করলে কৃষকরা আরো লাভবান হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের গাজীপুর সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: সাইদুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলে আমলকী চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম হওয়ায় গাছের পরিচর্যাও কম লাগে। উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সংরক্ষণ ও বিপণনব্যবস্থার উন্নয়ন হলে আমলকী রফতানিযোগ্য সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হয়ে উঠতে পারে।
টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিকিৎসক মোছা: আলেয়া খাতুন বলেন, আমলকীতে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। এটি হজমে সহায়তা করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। ত্বক ও চুলের যতেœও ফলটি উপকারী।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








