কেন্দ্রে মাইকিং করে ভোট চাওয়ার ইতিহাস বিএনপির সৃষ্টি : এ টি এম আজহার
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে জালিয়াতি ও বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের মিছিল : নয়া দিগন্ত।

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি, কেন্দ্র সমানে মাইকিং করে ভোট চাওয়া এবং নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। রোববার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর আয়োজিত সমাবেশে নির্বাচন কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ ও ফলাফলের সমালোচনা করেন দলটির নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সরাসরি কেন্দ্রের সামনে মাইকিং করে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার ইতিহাস বিএনপি সৃষ্টি করেছে। এরপরও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে, যা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।
বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির কথা ও কাজের মিল নেই। নির্বাচনের আগে তারা গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে ইতিবাচক অবস্থান নিলেও ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। শুধু প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পরিবর্তন হলে চলবে না, জুলাই বিপ্লবের চেতনা অনুযায়ী রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক রূপান্তর ঘটাতে হবে। সরকার চাইলে দেশ গঠনে বিরোধীদল সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। এ ছাড়া আগামী সংসদ অধিবেশনের আগেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসনের সহায়তায় ভোট চুরির অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, বেলা ২টা পর্যন্ত যেখানে ৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল, সেখানে ফলাফলে তা হঠাৎ বাড়িয়ে ৬৪ শতাংশ দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের প্রাপ্ত ভোট কেটে কম দেখানো হয়েছে বলেও তার অভিযোগ।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতির আসন ও তার ভাইয়ের পরাজয়ের লজ্জা ঢাকতেই এই উপনির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কারচুপি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, সৈয়াদ জয়নুল আবেদীন এমপি এবং মাওলানা ইয়াসিন আরাফাত। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন ও বিজয়নগর মোড় প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।