বোলারদের দুষলেন শান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক 
সিরিজ শুরুর আগে যা ভাবা হয়েছিল, ঠিক তার উল্টোটাই হলো মিরপুর শেরেবাংলায়। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই মলিন ছিল বাংলাদেশের স্কোয়াডের সদস্যরা। ৮ উইকেটে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অজুহাত খুঁজলেন বোলারদের নিয়ে। জানান ১৭০ হওয়ার পরে উইকেটের যে অবস্থা ছিল তাতে আমাদের বিশ্বাস ছিল যে এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। বাট আনফরচুনেটলি হয়নি। অবশ্যই ওদেরকে একটু ক্রেডিট দিতে হবে বাট আমি বলব যে আমরা এই উইকেটে আরেকটু বেটার বল করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি। 
স্পিনারদের নিয়ে বললেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে লেংথটা আমরা খুব ভালোভাবে পিক করতে পারিনি। একটু এলোমেলো ছিল। আদারওয়াইজ এত সহজে আপনি যদি স্পেশালি ফোর্থ ইনিংসের ব্যাটিংটা ওদের দেখেন আমরা মাত্র ২টি উইকেট নিয়েছি। সো এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অ্যাটলিস্ট যদি ৭-৮টি উইকেটও আমরা নিতে পারতাম, তাহলে হয়তো বুঝতাম যে আমরা হয়তো রানটা অনেক কম করেছি। সো এই জায়গাটাতে আমার মনে হচ্ছে একটু এলোমেলো ছিল।’ 
অথচ গত দু’টি টেস্টে পাকিস্তান আর ভারতের সাথে যখন স্পোর্টিং উইকেট ছিল, ব্যাটিং উইকেট ছিল। এমন উইকেটে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগোনো যায় কি না- এরকম কোনো চিন্তা ছিল কি না। শান্তর জবাব, ‘না এরকম কোনো চিন্তা ছিল না। আমি ফাইনালের কথা প্রথম দিন প্রেস কনফারেন্সেও বলেছি যে একেকটা ম্যাচ চিন্তা করতেছি। সো অপোনেন্টের কী স্ট্রেন্থ আছে বা কোন জায়গাটাতে আমরা বেটার করতে পারি অপোনেন্টের কী উইক জোন এগুলো চিন্তা করে কন্ডিশনটি সেট করা হয়েছে। প্রথম দুই দিন উইকেটটা মোটামুটি খুব ভালোই ছিল। ভালো স্টার্ট পাওয়ার পর শুরুতে অত ভালো ব্যাটিং করিনি। বাট আমার মনে হয় না যে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল চিন্তা করে কন্ডিশনটা এরকম বানানো হয়েছে। 
পেস ও স্পিন বোলিংয়ের জায়গাটা নিয়ে শান্ত জানালেন, ‘আমি বলব যে অবশ্যই ভালো বল করেছে কন্ডিশনটাও ডিফারেন্ট ছিল। আমার মনে হয় এ ধরনের উইকেটে এরকম সিচুয়েশন আসে। বাট ইম্পর্টেন্ট ছিল যে ওইখানে ৩টি উইকেটের জায়গায় যদি আমরা ১টি উইকেটও মিনিমাইজ করতে পারতাম এটি ভালো হতো। পেস বোলিংয়ের সাথে সাথে স্পিনাররাও কিন্তু দেশের বাইরে বা দেশে উইকেট নিয়েছে। মিরাজ দেখবেন বেশ কিছু জায়গায় ৫ উইকেটও নিচ্ছিল, তাইজুল ভাইও ভালো বল করেছিল। দু’জনের মধ্যে একটা ভালো কম্বিনেশন ছিল। সো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোন জায়গায় স্ট্রেন্থ আছে কোন জায়গায় উইকনেস আছে ওই অনুযায়ী আমরা কিন্তু উইকেটটা ওইভাবে তৈরি করেছি এবং স্পেশালি আমরা আসলে কিভাবে ওদেরকে ডমিনেট করতে পারি ওই চিন্তা করে উইকেটটা বানানো। কারণ স্পিনাররা সবসময় আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে অতীতে। সো ওই কনফিডেন্সটা আমাদের আগেও ছিল এখনো আছে। আমার মনে হয় না যে কন্ডিশন নিয়ে খুব বেশি আমরা ভুল করেছি। 
চার-পাঁচটি আম্পায়ারস কল হয়েছে। এটি কি আসলে ব্যাড লাকও বলতে পারেন এই ম্যাচটি হারার জন্য? একই সাথে যদি আপনার বোলারদের আসলে স্পিনারদের বিশেষ করে কোনো লড়াই করতে পারেনি। এটিও কি একটা কারণ? শান্তর সোজাসাপ্টা উত্তর, আপনি যখন ১৭০ রান টার্গেট দেবেন তখন আম্পায়ারস কল পাঁচটির মধ্যে তিনটি আপনার দরকার হবে। আনফরচুনেটলি এটি হয়নি। এটি ক্রিকেটের পার্ট। নরমালি এটি আম্পায়ারকে আপনি দোষও দিতে পারবেন না। বুঝতে হবে ভাগ্যে ছিল না। বাট এ ধরনের সিচুয়েশনে আপনি যদি তিনটি পেয়ে যেতেন বা শুরুতেই যে আউটটি আমরা পাইনি ওটা যদি পেয়ে যেতাম তাহলে একটি ডিফারেন্ট মোমেন্টাম পেতাম। বাট এগুলো আসলে এক্সকিউজ না। এটি ক্রিকেটের একটা অংশ।’ 
আম্পায়ারস কলে টিম কি ডিমোটিভেটেড ছিল? শান্তর জবাব, ‘মিথ্যা বলব না, আমার মনে হয় যখন চার-পাঁচটি এরকম সিদ্ধান্ত বিপক্ষে যায় স্বাভাবিকভাবে একটু তো ডিমোটিভেটেড লাগে।’ 
তৌহিদ হৃদয় দুই ইনিংসেই যেভাবে আউট হয়েছেন। তা নিয়ে কি ড্রেসিংরুমে কথা হয়েছে। ‘একেকজনের খেলা একেক রকম। বাট আমি এই চার ইনিংসে কোনো ব্যাটারকেই জাজ করতে চাই না এবং আমাদের কারোরই করা উচিত না। আমরা সবাই জানি হৃদয় কতটা ক্যাপাবল এবং কত ভালো ব্যাটসম্যান স্পেশালি হোয়াইট বল ক্রিকেটে ইভেন যখন ও ফার্স্ট ক্লাস খেলে তখনো লম্বা রান করে। সো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে মাত্র চারটি ইনিংস ব্যাটিং করেছে। আমার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে যে ও খুব ভালোভাবেই কামব্যাক করবে এবং বড় বড় রান করবে। সো এটি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছি না; কারণ ও অলরেডি প্রুভ করেছে।’

Advertisement