তারেক রহমানের টেস্টের ব্লাড ডাস্টবিনে ফেলা মিলনের আধিপত্য

 আমিনুল ইসলাম

Advertisement

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি) হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে চলছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি। আওয়ামী পন্থী মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট স্বাচিপপন্থী চিকিৎসকেরা চালাচ্ছে বিভাগের সব ধরনের কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গ্রেফতার হওয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্লাড টেস্টের স্যাম্পল ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট বহাল তবিয়তে এখনো তার অধিপত্য ধরে রেখেছেন।  
এই গ্রুপের চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা একে অপরে মিলেমিশে চরম দুর্নীতির মাধ্যমে এই বিভাগের কেনাকাটা, পরীক্ষাগারের রিএজেন্ট সংগ্রহ ও বিভিন্ন কমিশনসহ আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে। বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে রিএজেন্ট কেনা এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমিশন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। 
অভিযোগ রয়েছে, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ চালাচ্ছেন স্বাচিব সমর্থিত ডা. শাহেদা আনোয়ার, ডা. ইসমাত নিগার ও ডা. এস এম আলী আহমদ। তাদের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া মো: ফারুক হোসেন, আবদুস সালাম ও মাসুদ হোসেনসহ চক্রের কয়েকজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট কেনাকাটার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। গত ১৬ বছর ধরে তারা কমিশন বাণিজ্য করে কয়েক গুণ বেশি দামে মালামাল ক্রয় করে এলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অর্থ বিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকর তদারকি নেই। অথচ কেনাকাটায় কেন্দ্রীয় অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হলে বাজারদর যাচাই ও আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সাশ্রয় সম্ভব। 
 জানা গেছে, সাবেক ভিসি অধ্যাপক এম এ হাদীর সময়ে নিয়োগ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সিনিয়র মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পদে পদোন্নতি পাওয়া মো: মিলন হোসেন পরীক্ষাগার কার্যক্রম ও রিএজেন্ট কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের বিরুদ্ধে বেতন-ভাতার বাইরে প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা কমিশন পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। 
অথচ ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তার ব্লাড টেস্টের স্যাম্পল ডাস্টবিনে ছুড়ে দিয়েছিল এই মিলন হোসেন। তৎকালীন নার্সিং নেত্রী বিলকিস জাহান চৌধুরীসহ কয়েকজন টেকনোলজিস্ট ব্লাড সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিচ্ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী পন্থী মিলন সেই ব্লাড পরীক্ষা না করতে দিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। পরে স্বচিবের চিকিৎসকদের কাছে নিজেকে আওয়ামী লীগের বড় নেতা হিসাবেও জাহির করেন। 
সেই সময়কার কয়েকজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন মতাদর্শী সহকর্মীরা পরীক্ষার জন্য গেলে মিলন হোসেন বিনা মূল্যে পরীক্ষা না করার জন্য স্বাচিপপন্থী চিকিৎসকদের প্রভাবিত করতেন। যদিও অভিযুক্ত মিলন হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। 
অভিযোগকারীদের দাবি, মাইক্রোবায়োলজি ও সংশ্লিষ্ট বেসিক সায়েন্স বিভাগগুলোর কেনাকাটা, রিএজেন্টের বাজারমূল্য, সরবরাহকারী নির্বাচন, কমিশন বা পারিতোষিক বণ্টন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অর্থ বিভাগ ও প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। গত ১৬ বছরের কেনাকাটার নথি, দরপত্র, বিল, সরবরাহকারীদের তথ্য ও বিভাগীয় কমিটির কার্যবিবরণী যাচাই করা হলে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।