ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, ৪ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক 

Advertisement

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মঞ্জুরুল বাছিতের ধানমন্ডির কলাবাগানের বাসভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। গতকাল জুমার নামাজের আগমুহূর্তে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল ফাটিয়ে সটকে পড়ার চেষ্টাকালে চারজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। 
পুলিশ বলছে, এ ঘটনার পর সেখান থেকে আরো তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। 
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকের বাসার সামনে চার থেকে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। যে তিনটি ককটেল অবিস্ফোরিত ছিল, সেগুলো উদ্ধারের পর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা নিষ্ক্রিয় করেছেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
কলাবাগান থানার ওসি মো: ফজলে আশিক বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ফুটভারব্রিজের পূর্ব পাশের রাস্তায় তিনটি ককটেল ছুড়ে মারা হয়। ককটেলগুলোর বিস্ফোরণ হয়নি। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দল ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করে। পশ্চিম রাস্তায় ছুড়ে মারা একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। 
এ দিকে রাজধানীর পুরনো রমনা থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। 
গ্রেফতার দু’জনের মধ্যে একজন জাহিদুল ইসলাম মনির ও অন্যজন কিশোর। শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হাতিরঝিল থানার নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে মধুবাগ মাঠে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করে বোম ডিসপোজাল টিম। 
পুলিশ জানায়, গত ২৩ অক্টোবর পুরনো রমনা থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলা এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোরে হাতিরঝিলের ৪৫৩ নম্বর নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে ওই কিশোর ও মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। 
পরবর্তী সময়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসার ভেতরে থাকা চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।