ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আত্মশুদ্ধি ও ইখলাস জরুরি: মামুনুল হক
ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আত্মশুদ্ধি ও ইখলাস জরুরি: মামুনুল হক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

ইসলামী আন্দোলনের কার্যক্রমের অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা বাইরের শত্রুতা, হিংসা কিংবা অপপ্রচার নয়; বরং নিজেদের কাজের ত্রুটি, আমলে ইখলাসের ঘাটতি ও আত্মশুদ্ধির অভাব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে রিয়া, লোভ ও ব্যক্তিগত খাহেশ পূরণের প্রবণতা থাকলে বড় বড় দ্বীনি কার্যক্রমও ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আত্মশুদ্ধি ও ইখলাসের প্রতি বিশেষ যতœবান হতে হবে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত আজিমুশশান ইসলাহী ইজতেমায় জুমার নামাজের আগে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, ইসলামের অগ্রযাত্রা রোধ করার শক্তি কারো নেই। তবে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলদের নিজেদের আমল, নৈতিকতা এবং আত্মিক সংশোধনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। 
আত্মশুদ্ধির অভাব ও ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণের প্রবণতা দ্বীনি কার্যক্রমের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, ইসলামী সমাজের দৃশ্যমান কার্যক্রম ও অগ্রগতি 
টিকিয়ে রাখতে আত্মশুদ্ধি ও ইসলাহের মেহনত জোরদার করতে হবে। একটি বৃক্ষের শেকড় যেমন মাটির নিচ থেকে পানি ও পুষ্টি সংগ্রহ করে পুরো বৃক্ষকে সজীব রাখে, তেমনি আত্মশুদ্ধির চর্চা ইসলামী সমাজের ভিত্তিকে শক্তিশালী করে।
ঢাকায় এ ধরনের আত্মশুদ্ধিমূলক কর্মসূচিকে সারা দেশের জন্য উপকারী উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে সিলেটের মতো ঢাকায়ও তিন দিনব্যাপী পূর্ণাঙ্গ ইজতেমা আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ আয়োজন সফল করতে ঢাকাবাসী সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সহযোগিতা করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের ইসলামী শিক্ষা প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে সন্তানদের শৈশব থেকেই কুরআন ও ঈমানের মৌলিক শিক্ষা দেয়ার আগ্রহ বাড়ছে। অভিভাবকেরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা রাখছেন। তবে শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে কুরআন ও ঈমানের মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের ভূমিকার প্রতি সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন রয়েছে।
ইসলামী শিক্ষা ও ধর্মীয় জাগরণ নিয়ে বিরূপ মনোভাব পোষণকারীদের হেদায়েত কামনা করে তিনি বলেন, বিরূপতা ও অপপ্রচার ইসলামের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে জাগরণ শুরু হয়েছে। 
তরুণ আলেমদের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, উম্মতের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার আগে আলেম-ওলামাদের নিজেদের অন্তর পরিশুদ্ধ করা জরুরি। শিক্ষকতা, দ্বীনি খেদমত কিংবা পেশাগত জীবনে প্রবেশের আগে প্রত্যেকের আত্মগঠন সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এ জন্য কোনো মুসলিহ, শায়খ কিংবা মুরুব্বির তত্ত্বাবধানে থেকে আত্মসংশোধন ও রূহানিয়াত জাগ্রত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইসলাহের মারকাজগুলোকে তরুণ প্রজন্মের আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংশোধনের কাজে আরো বেশি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।