রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি, নভেম্বরে গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা

 ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

Advertisement

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আরো ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে জ্বালানির চালানটি প্রকল্প এলাকায় নেয়া হয়। এদিকে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী নভেম্বরেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশিয়া থেকে ভারতের দিল্লি হয়ে জ্বালানির্বাহী উড়োজাহাজটি সোমবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আভিয়াকন জিতোট্রান্স পরিচালিত এজেডএস-৬৭১৩ ফ্লাইটে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন জ্বালানি আনা হয়। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা তা বুঝে নেন।
মঙ্গলবার সকালে তিনটি লরিতে করে জ্বালানি ঢাকা থেকে রূপপুরে নেয়া হয়। পথে বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায় লরিগুলো। পুরো পথে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থাও নেয়া হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য আরো ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনা হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরো সাতটি ফ্লাইটে জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।
এদিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শেষ হলেও কারিগরি জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনব্যবস্থার নিরাপত্তা বাল্বে ত্রুটি দেখা দেয়ায় নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।