
ক্রীড়া প্রতিবেদক
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব। ১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। এতে সাত গড়িয়ে আট দলের লড়াইও হয়েছে। ২০২৩ সালে দুই অতিথি দেশ কুয়েত ও লেবাননকেও সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তবে কখনোই এই শিরোপা সাফ অঞ্চলের বাইরে যায়নি। বাংলাদেশ অবশ্য একবারই এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছিল। তা ২০০৩ সালে নিজ মাঠে। ২৩ বছর আবারো ঘরের মাঠে এই ট্রফিতে হাত ছোঁয়াতে চান ফুটবলাররা। ঘরের মাঠে ২০০৩ সালের পর ২০০৯ ও ২০১৮ সালেও সাফ হয়েছিল। ২০০৩ সালের পর কোনো আসরেরই ফাইনালে খেলা হয়নি বাংলাদেশের। এখন দেশের ফুটবলে যে গণজাগরণ শুরু হয়েছে তাতে এ সাফ শিরোপা পুনরুদ্ধারটা অতি জরুরি হয়ে গেছে খেলোয়াড়দের জন্য। এ লক্ষ্য পূরণেই গতকাল থেকে জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু লাল-সবুজদের অনুশীলন। প্র্যাকটিস শুরুর আগে ডিফেন্ডার তপু বর্মনের মুখেও সেই সাফ শ্রেষ্ঠত্ব পুনরায় ফিরে পাওয়ার ঘোষনা।
২৩ ফুটবলার নিয়ে গতকাল অনুশীলন শুরু করেছেন কোচ টমাস ডুলি। তার সব কোচিং স্টাফই বিদেশী। সহকারী কোচ হিসেবে এতো দিন হাসান আল মামুন থাকলেও কাল তাকে দেখা যায়নি। নিজ ক্লাবের হয়ে ব্যস্ততার জন্য জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি হামজা চৌধুরী, শমিত শোম, ফাহামিদুল ইসলাম, ফারহান আলী ওয়াহিদরা। তারা পরে আসবেন। এর মধ্যে ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পাওয়া যাবে না হামজা চৌধুরীকে।
হামজাকে ছাড়া খেলতে হরে ভুটানের বিপক্ষে। এর আগে ২০২৪ সালে ভুটানের মাঠে তাদের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার কি হামজাকে ছাড়া ভুটানের বিপক্ষে জিততে পারবে টমাস ডুলি বাহিনী। তপুর জবাব, ‘ভুটানের বিপক্ষে আমরা অবশ্যই মিস করবো হামজা চৌধুরীকে। তিনি আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ন ফুটবলার। তবে আমরা যদি একটি টিম হিসেবে খেলতে পারি তাহলে হামজার অভাবটা ঘোছাতে পারব।’ এই ডিফেন্ডার ভালো করেই জানেন যে কোনো টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে জেতাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জানান, ‘ভুটানের বিপক্ষে জেতাটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শিরোপা পুনরুদ্ধারের জন্যই এই সাফে অংশ নিচ্ছি। তাই ভুটানের বিপক্ষে জয়েই শুরু করতে হবে। আমরা চাই ম্যাচ বাই ম্যাচ এগুতে। সব ফুটবলারই মুখিয়ে আছে সাফের জন্য। এতে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা আমাদের ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
আসিয়ান কাপে বাজে রেজাল্টের পর সাফ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আসিয়ান কাপে প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ০-৩ গোলে এবং শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ২-৯ গোলে পরাজিত হওয়া। যা বাংলাদেশের ফুটবলে এই মুহুর্তের চিত্রের সাথে বেমানান। তপুও উল্লেখ করলেন তা। ‘আমরা জানি না ইন্দোনেশিয়ার ম্যাচে আগে সর্বশেষ কবে ৯ গোল খেয়েছি। আসলে গোল হজম করলে ডিফেন্ডার-গোলরক্ষক সবার ওপরই দোষ চাপে। তবে টিম ডিফেন্ডিংটা ভালো হবে এত গোল আর হবে না। আমি একজন ডিফেন্ডার হিসেবেও সেই চেষ্টা করব কিভাবে ডিফেন্স লাইনকে শক্ত করা যায়।
আসিয়ান কাপে ইনজুরির জন্য খেলা হয়নি তপুর। সে আসরে জাতীয় দলে অভিষেক হয় জিদান ইউসুফের। সাফে স্টপার ব্যাক পজিশনে জুটি হতে পারে তপু ও জিদানের। বসুন্ধরা কিংসের এই ফুটবলারের মতে, জিদান বয়সে তরুণ। মাত্রই তিন ম্যাচ খেলেছে জাতীয় দলের হয়ে। এতে অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। এখন আমরা ৫ নভেম্বর সাফের ম্যাচের আগে আরো ৯ দিন সময় পাব। এতে আরো ভালো বোঝাপড়া হবে।
তপু আরো যোগ করেন নাম্বার নাইন পজিশনে আমাদের দলে নতুন দুইজন খেলোয়াড় যোগ দিয়েছে। একজন হলেন মাহি খান। এটা খুবই এক্সাইটিং। দেখা যাক।
তপু জানান, সাফে যে দলই খেলুক না কেন চ্যাম্পিয়ন হতে হলে রাইভাল টিমকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। আমরা নিজ মাঠে গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সামনে খেলবো। এদের সমর্থন নিয়ে ভালো ভালো পারফরম করেই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।
প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া মাহি খান জানান, আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল হামজা ভাইয়ের সাথে খেলা। আমি খুবই এক্সাইটেড। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে উজবেকিস্তানের মাটিতে অভিজ্ঞতাটা ভালো হয়নি। তবে সাফে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








