
আনাদোলু এজেন্সি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সঙ্ঘাতের প্রভাবে সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কায় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শীত মৌসুমের আগে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গ্যাস মজুদের নিম্নহার, যা পরিস্থিতিকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত বাজারদরের তথ্যানুযায়ী, ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের ফিউচার মূল্য ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৯৭ দশমিক ১৫ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ২০ মিনিট) এ দর রেকর্ড করা হয়। আগের শুক্রবারের বাজারদরের তুলনায় এ বৃদ্ধি গ্যাসের দামকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় এ দাম ১০৮ দশমিক ৮ ডলারের সমান। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাত তীব্র হওয়ায় বিশেষ করে শীতকালে ইউরোপের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এ উদ্বেগ আরো গভীর হয়েছে। একসময় বিশ্ববাজারে মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসত এ অঞ্চল থেকে। কিন্তু বর্তমানে সেখান থেকে সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কম।
ইউরোপের জ্বালানি বাজারে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এ অঞ্চলে সঙ্ঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের সরবরাহ ও দামের ওপর আরও চাপ বাড়বে। শীতের সময় ঘরবাড়ি গরম রাখা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানায় জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব ইউরোপের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








