
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
দুর্গাপূজার লম্বা ছুটির পরও কোনো পরিবর্তন ঘটল না পুঁজিবাজার আচরণের। ছুটির পর গতকাল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে আবার বড় দরপতনের শিকার হলো পুঁজিবাজারগুলো। ঢাকা শেয়ারবাজারে এদিন সব সূচকের কমবেশি পতন ঘটে। তবে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ছিল সূচকের মিশ্র আচরণ। এখানে বিশেষায়িত একটি সূচক কিছুটা উন্নতি ধরে রাখলেও অন্য দু’টি সূচকের যথারীতি অবনতি ঘটে। দুই বাজারেই লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও ফান্ডের বেশির ভাগই ছিল দরপতনের শিকার। হ্রাস পেয়েছে বাজারগুলোর লেনদেনও।
দিনের বাজার আচরণে খুবই হতাশ বিনিয়োগকারীরা। বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী নয়া দিগন্তকে বলেন, বরাবরই কোনো বড় ছুটির পর বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ে। দীর্ঘ ছুটির পর সবার বিনিয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে যার ফলে ছুটি পরবর্তী সবার মাঝ একটি প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার সবাইকে হতাশ করেই সবার প্রত্যাশা মার খেল। সূচকের এ অবনতির পেছনে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন তারা। কারণ, পূজার ছুটির আগের দিন বাজারে সূচকের ও লেনদেনের যে উন্নতি ঘটেছিল তা সকল বিনিয়োগকারীদের আশ^স্ত করেছিল। এর আগে দু’দিন বাজারে লেনদেন ও সূচকের বড় অবনতির পর ওইদিন বাজারে এক প্রকার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত ছিল, যা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে প্রত্যাশা জন্মে ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৮ দশমিক ০৭ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ৫ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬২ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল লেনদেনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৪৩২ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১ দশমিক ৬৬ ও ৯ দশমিক ৭১ পয়েন্ট। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই গতকাল ২২ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। এখানে দুই বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে সিএসই-৩০ ৪৪ দশমিক ৩২ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। অপর বিশষায়িত সূচক সিএসসিএক্স এর অবনতি ঘটে ১ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।
সূচকের অবনতির ফলে গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই লেনদেনে ছিল ধীরগতি। এতে বাজারগুলোর লেনদেনও হ্রাস পায়। ঢাকা শেয়ারবাজার গতকাল ৪৩০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয় যা আগের দিন অপেক্ষা ৭২ কোটি টাকা কম। পূজার ছুটির আগের দিন ১৯ অক্টোবর ডিএসইর লেনদেন ছিল ৫০২ কোটি টাকা। একইভাবে সিএসইতে গতকাল ১৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় যা আগের দিন অপেক্ষা ৫ কোটি টাকা কম। ১৯ অক্টোবর সিএসইর লেনদেন ছিল ২১ কোটি টাকা। ওইদিন সূচকের উন্নতিও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ মনে সংশ্লিষ্টরা।
এ দিকে গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, একমাত্র ব্যাংক ও সেবা খাত ছাড়া সব খাতেই দরপতন ঘটেছে গতকাল। ব্যাংকিং খাতের ভালো কোম্পানির সব ক’টি গতকাল মূল্যবৃদ্ধির তালকায় উঠে আসে। ব্যাংকের বাইরে বীমা খাতের কয়েকটি কোম্পানি গতকাল মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে। তালিকায় ছিল কয়েকটি মিউচুয়াল ফান্ডও। তবে অন্যান্য খাতের ভালো কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই গতকাল দরপতনের শিকার হতে দেখা যায়। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করা বেশ কয়েকটি কোম্পানিও বাদ যায়নি। বাজার আচরণের এদিকটিই বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্যাংকিং কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক। ৩২ কোটি ৬ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় ৫১ লাখ ১০ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে একই খাতের সিটি ব্যাংক ছিল দিনের দ্বিতীয় স্থানে। লেনদেনে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে মতিন স্পিনিং, প্রাইম ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সোনালী আঁশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ফার কেমিক্যালস।
দিনের মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষে উঠে আসে বীমা খাতের বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। ৮ দশমিক ৬ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল মিউচুয়াল ফান্ড সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড। মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে মিডল্যান্ড ব্যাংক, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা ব্যাংক, মতিন স্পিনিং মিলস, প্রাইম ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, সাউতইস্ট ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড।
এ দিন দরপতনে ডিএসইর শীর্ষ কোম্পানি ছিল টেক্সটাইলস খাতের দেশ গার্মেন্ট। ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল একই খাতের দেশ গার্মেন্ট। দরপতনে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, সায়হাম টেক্সটাইলস, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি, ইন্টারনেট সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং ও কুইন সাউথ টেক্সটাইলস।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








