৪০০ রানও নিরাপদ নয় ওয়ানডেতে

ক্রীড়া প্রতিবেদক 
১৯৯২ সালের ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের কথায় ধরুন। সেই আসরে ২১৫-২০ রান করেই যেকোনো দল জিতে গিয়েছিল। এই বিশ্বকাপেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৪ রান করেও ৯ রানের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই বিশ্বকাপের আগে ও পরে কোনো দেশের প্রথম ইনিংসের গড় সাধারণত ২৪০/২৫০ রানই যথেষ্ট মনে হতো জয়ের জন্য। এরপর ৩০০ রানকে পুঁজি করে জেতা যেত ম্যাচ। পরে দেখা গেল প্রথম ইনিংসে ৩৫০ রানও নিরাপদ নয়। তবে হাল আমলের ওয়ানডেতে ৪০০ রান করেও ম্যাচ জেতা যাচ্ছে না। গত এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ৪০০+ রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা ঘটেছে দু’বার। যার সর্বশেষটি গত পরশু করে দেখিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ডের করা ৪২৯ রানকে তাড়া করে দুই উইকেট ও এক বল হাতে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শ্রীলঙ্কা। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে ৪০৫ রান করেও ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের এই রান ৪৩.৩ ওভার ও দুই উইকেট হারিয়ে জিতে গেছে ভারত। ৪০০ রান তাড়া করে প্রথম জয়ের ঘটনা ২০০৬ সালে প্রথম ঘটলেও গত এক মাসে দু’টি ম্যাচের ফলাফল বলে দিচ্ছে, আগামীতে হয়তো সাড়ে ৪০০ রানও ভরসার ইনিংস হবে না কোনো দলের। 
ওয়ানডে ক্রিকেটে একটা সময় বড় সংগ্রহ মনে করা হতো ৩০০ রানকে। সময়ের সাথে সাথে বদলেছে ব্যাটিংয়ের ধরন, বেড়েছে চার-ছক্কা। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার এই ম্যাচে ৪৯.৫ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। দুই ইনিংস মিলে হয়েছে ৮৫৯ রান, যা ওয়ানডে ক্রিকেটে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দুই দল মিলে ৯৩টি চারে হয়েছে ৫৫২ রান। যা ৫০ ওভারের ম্যাচে বাউন্ডারি থেকে আসা রানের নতুন রেকর্ড। আর ওয়ানডে ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করে জয়। এর আগে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার করা ৪৩৪ রানকে টপকে ৪৩৮ করে জিতে রেকর্ডটি গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। 
ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা, উন্নত ব্যাটিং কৌশল এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্যই বড় লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জেতাকে বাস্তব করে তুলছে। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ের সীমাবদ্ধতা, বোলারদের ওপর চাপ এবং ডেথ ওভারে বোলারদের রান আটকে রাখতে না পারাও বড় সংগ্রহের নিরাপত্তা কমিয়ে দিচ্ছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত পরশু শ্রীলঙ্কার জয়ী ম্যাচে হয়েছে আরো কয়েকটি রেকর্ড। ইংল্যান্ড অধিনায়ক ব্রুক ১১৬ বলে ২০২ রান করে পুরুষদের ওয়ানডেতে দ্রুততম দ্বিশতকের কীর্তি গড়েছেন। ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে প্রথম দ্বিশতকও এটি। এই ম্যাচে উল্লেখ করার মতো হয়েছে যেসব রেকর্ড।

Advertisement