নিকলীতে ১১ মাসেও প্রধান শিক্ষককে দেখেনি শিক্ষার্থীরা

আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ)

Advertisement

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীর সিংপুর হাজী আফিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক শিক্ষার্থীর দাবি, বিদ্যালয়ে ১১ মাস ধরে পড়াশোনা করলেও এ সময়ে এক দিনও প্রধান শিক্ষককে দেখেনি সে। তবে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার দাবি করেছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
গত ১৩ অক্টোবর সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়টিতে মোট ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে পরিদর্শনের সময় ছয়জন শিক্ষক ও একজন শিক্ষিকাকে উপস্থিত পাওয়া যায়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থী ৪৯৭ জন। তবে প্রতিবেদকের নিজস্ব গণনায়, পরিদর্শনের দিন ষষ্ঠ শ্রেণীতে ৪৪, সপ্তম শ্রেণীতে ৩২, অষ্টম শ্রেণীতে ৩৪, নবম শ্রেণীতে ২৪ এবং দশম শ্রেণীতে ১৬ জনসহ মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন তিন-চারটির বেশি ক্লাস হয় না। বৃহস্পতিবার এক-দু’টি ক্লাসের পরই ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় বিদ্যালয়টিতে সাত শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। কিন্তু শিক্ষার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। পরে ক্যামেরার বাইরে এক শিক্ষার্থী দাবি করে, বিদ্যালয়ে ১১ মাস ধরে পড়াশোনা করলেও সে প্রধান শিক্ষককে এক দিনও দেখেনি। তবে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে কিছুটা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন, নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। ব্যক্তিগত কাজ থাকলেও তিনি এলাকায় আসেন।
সরেজমিনে প্রধান শিক্ষকের নির্ধারিত চেয়ারটি গোছানো অবস্থায় দেখা গেলেও তাকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের টয়লেট নষ্ট ও অপরিচ্ছন্ন থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের পাশের একটি পরিত্যক্ত শিক্ষাকেন্দ্রের ভবনে শিক্ষকদের নিয়মিত কোচিং করানোর অভিযোগও উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি সিংপুর ইউনিয়নের একমাত্র উচ্চবিদ্যালয়। ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার দাবি করেন। তার এ বক্তব্যের সাথে শিক্ষার্থী ও এক সহকর্মী শিক্ষকের বক্তব্যের ভিন্নতা রয়েছে।
নিকলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি নিজে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে অভিযোগগুলো তদন্ত করবেন। এর আগেও এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি চান স্থানীয় অভিভাবকরা।