
আতিয়ার রহমান জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় চুরি, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ড, মোটরসাইকেল ও সেচপাম্প চুরি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অপরাধের ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর শহরের কাছে বিডিআর ক্যাম্প এলাকায় ছুরিকাঘাত করে মুদি ব্যবসায়ী আবদুল জব্বারের কাছ থেকে ৪১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পাওনা টাকা আদায় করে ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। পরদিন রাত ৯টার দিকে খয়েরহুদা-কাশিপুর সড়কে জহুরুল ইসলামের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি আহত হন। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ দিকে গত ১৫ অক্টোবর নিখোঁজ হওয়া ভ্যানচালক চাঁদ আলীর লাশ ১৯ অক্টোবর উদ্ধার করে পুলিশ। তার ভ্যানটি এখনো উদ্ধার হয়নি। ভ্যান ছিনিয়ে নেয়ার জন্য তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি জানা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে এক ভুক্তভোগী নিজ উদ্যোগে যশোর থেকে তার মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মাঠ থেকে প্রায়ই বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চুরির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
জীবননগর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, চুরি-ছিনতাইয়ের ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী এখন দলবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাড়ি ফিরছেন। এতে স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী হওয়ায় জীবননগরে মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ- পুলিশ ও বিজিবির অভিযানে মাদককারবারি ও সেবনকারীদের কেউ কেউ আটক হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। মাদক কারবারের সাথে জড়িত মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে রাত পর্যন্ত পুলিশি টহল বাড়ানো, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে নজরদারি এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পুলিশের নজরে রয়েছে। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আগের যেকোনো সময়ের থেকে পুলিশি টহল জোরদারসহ অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








