
এসএম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)
আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বাড়ানো ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। তবে নানা উদ্যোগের পরও সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এর অন্যতম উদ্বেগজনক কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যানবাহনে অতিরিক্ত উজ্জ্বল ও অননুমোদিত এলইডি লাইটের ব্যবহার।
সরেজমিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের অনেকগুলোতে মূল হেডলাইটের পাশাপাশি অতিরিক্ত এলইডি বার ও প্রজেক্টর লাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে ওঠা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারেও তীব্র আলোর বাল্ব দেখা যায়।
বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির তীব্র আলো চালকের চোখে পড়লে সাময়িকভাবে দৃষ্টিসম্পর্কিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে সামনে থাকা যানবাহন, সড়কের বাঁক ও পথচারী দেখতে অসুবিধা হয়, বাড়ে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি। বিশেষ করে রাতের বেলায় মোটরসাইকেল আরোহী, সাইকেল চালক ও পথচারীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়েন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া ও চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসংলগ্ন অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলোতে এ ধরনের আলো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রমিত মানের এলইডি লাইট সঠিকভাবে স্থাপন ও ব্যবহার করলে দৃশ্যমানতা বাড়ে। কিন্তু অতিরিক্ত উজ্জ্বল, ভুল কোণে স্থাপিত বা অননুমোদিত লাইট বিপরীত দিকের চালককে বিভ্রান্ত করে। কুয়াশা ও বৃষ্টির সময় তীব্র আলো প্রতিফলিত হয়ে দৃশ্যমানতা আরো কমিয়ে দিতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে চালকদের অদক্ষতা, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের ঘাটতি, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বহন, চালকের ক্লান্তি, মাদক সেবন, সড়কের বিপজ্জনক বাঁক, পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাব এবং মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের চলাচল। সড়কের পাশে অবৈধ দখল ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
এ ছাড়া ট্রাকে লবণ পরিবহনের সময় লবণমিশ্রিত পানি সড়কে পড়লে পিচ্ছিলতা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ব্যস্ত সড়ক পারাপারও পথচারীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, অননুমোদিত লাইটের ব্যবহার বন্ধে শুধু জরিমানা যথেষ্ট নয়। গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত লাইট যাচাই, নিয়মিত অভিযান, অবৈধ লাইট অপসারণ এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসার সময় হাই-বিমের পরিবর্তে লো-বিম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্ব দেন।
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া এলাকায় বরুমতি সেতুর উত্তর প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন নিহত হন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ইলিয়াস কাঞ্চন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলন শুরু করেন। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের পর ২০১৭ সালে সরকার ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করে।
দিবসটি উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। তবে সড়ক নিরাপদ করতে আইনের কার্যকর প্রয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং চালক-পথচারী সবার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








