
আবুল কালাম
দীর্ঘ ছুটিতে ইট-পাথরের ব্যস্ত রাজধানীর ভেতরে প্রশান্তির খোঁজে ঘর ছেড়েছেন নগরবাসী। মুক্ত বাতাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পরিবার পরিজন নিয়ে ভীড় করছেন নগরীর বিনোদনকেন্দ্র, সবুজ প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশের সান্নিধ্যে। এ ছাড়া ছুটি কাটাতে ঢাকার ভেতরের কোলাহল এড়িয়ে অনেকেই বেছে নিয়েছেন সাভার, আশুলিয়াসহ ঢাকার বাইরের বিনোদন স্পট।
আহসান মঞ্জিল, জুলাই যাদুঘর, মিরপুরের জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক রমনা পার্কসহ একাধিক বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই সেগুলোতে মানুষের পদচারণা। সপরিবারে আসা দর্শনার্থীরা লেকের পাড়ে বসে গল্প করে, দীর্ঘ গাছের ছায়ায় হেঁটে কিংবা ঘাসের ওপর বসে কাটাচ্ছেন অলস ও শান্তিপূর্ণ সময়। যানজটহীন ফাঁকা ঢাকায় নিত্যদিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি সবকিছু ভুলে বুক ভরে একটু মুক্ত বাতাস নিতে মুখিয়ে মেগাসিটির বাসিন্দারা।
দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে লম্বা এই ছুটিতে লাখ লাখ মানুষ নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়লেও নগরীতে থাকা মানুষের বড় অংশই এখন ঘরের কোণ ছেড়ে পরিবার ও প্রিয়জন নিয়ে মেতেছেন আনন্দে।
এসব স্থানে আগতদের কেউ হাঁটছেন, কেউ শরীরচর্চায় ব্যস্ত, আবার কেউ গাছের ছায়ায় বসে উপভোগ করছেন সকালের স্নিগ্ধ পরিবেশ।
বিকেলের দিকে উত্তরার দিয়াবাড়ি হয়ে উঠেছে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। দিয়াবাড়ির কায়াকিং, বিশাল উন্মুক্ত আকাশ এবং মৃদু বাতাস উপভোগ করতে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ সেখানে হাজির হচ্ছেন। অন্যদিকে হাতিরঝিলের ওয়াকওয়েগুলোতে মৃদু আলোয় লেকের বাতাস গায়ে মেখে হাঁটছেন অনেকে। নাগরিক জীবনের দমবন্ধ পরিবেশ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এই খোলা জায়গাগুলো নগরবাসীর জন্য বড় এক ‘প্রেসার রিলিজ ভালভ’ হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে একটু নিরিবিলি ও আভিজাত্যের ছোঁয়ায় ছুটি কাটাতে অনেকেই বেছে নিয়েছেন সাভার, আশুলিয়া, জিরাবো কিংবা গাজীপুরের বুটিক রিসোর্টগুলো। বিশেষ করে আশুলিয়ার মমতা পল্লী রিসোর্ট এবং ফ্যান্টাসি কিংডমের রিসোর্টগুলোতে সুইমিংপুল, সবুজ লন এবং ইনডোর গেমসের আনন্দ নিতে অনেকেই ডে-লং ট্যুর বা রাত যাপনের বুকিং দিয়েছেন। পরিবার নিয়ে নিরিবিলিতে সময় কাটানোর জন্য এই জায়গাগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিরাজমান অবস্থায় ঢাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় এবারের ঘোরাঘুরি কোনো রকম অনাক্সিক্ষত জানজটের ভোগান্তি ছাড়াই অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে একমত প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ ভ্রমণপিপাসু। নগরবাসীর ভাষ্য, শহরের শব্দ ও বায়ুদূষণের মধ্যে থাকতে থাকতে মানুষের ভেতর এক ধরনের মানসিক অবসাদ তৈরি হয়। এই ধরনের দীর্ঘ ছুটি ও প্রকৃতির সংস্পর্শ মানুষের কাজের ক্লান্তি দূর করে নতুন শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। আগতরা বলেন, সারা সপ্তাহ কাজের চাপে নিজের জন্য সময় বের করা কঠিন। ছুটির দিনে এখানে এলে খোলা পরিবেশে হাঁটতে পারি। গাছপালা আর নির্মল বাতাসের মধ্যে কিছুক্ষণ থাকলে মনটা অনেক হালকা লাগে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








