ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তায় ব্যস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

এক দিকে পূজা অন্য দিকে ফাঁকা রাজধানী। এমন অবস্থায় রাজধানীর নিরাপত্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর। পূজামণ্ডপের কঠোর নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজধানীর নিরাপত্তায় ব্যস্ত তারা। পুলিশ, এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চেতে কাজ করে যাচ্ছে। 
গতকাল বুধবার আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, এক দিকে চলছে পূজা আর এই পূজার ছুটিতে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। এতে করে নিরাপত্তার চাপ বেড়েছে। তবে পুলিশের এ রকম চাপ প্রায় সবসময়ই থাকে। 
ডিএমপির রমনা বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর রমনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে। আমরা সেগুলোর শতভাগ নিরাপত্তা দিচ্ছি। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। 
তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি থানা এলাকাকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া রয়েছে এ সময় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আমরা সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছি। পূজার ডিউটির পাশাপাশি অন্যান্য টহল কার্যক্রম চলছে।  
যেহেতু একটি বড় ছুটি চলছে। রাজধানীর অনেক লোক গ্রামের বাড়িতে গেছেন। এ সময়টা বাসাবাড়িতে যেন চুরি-ডাকাতি বা অন্যান্য অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারেও আমরা কাজ করছি। 
সনাতন ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘোষণা করা হয়েছে সরকারি ছুটিও। সবমিলিয়ে রাজধানী ছেড়েছেন অনেক মানুষ। এ কারণে রাজধানীর পাড়া-মহল্লা অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। এ ছাড়া রাস্তাঘাটে যানবাহনের তেমন কোনো ভিড়ও নেই। এমন অবস্থায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 
রাজধানীর নিরাপত্তায় এসআরবির পক্ষ থেকেও টহল কার্যক্রম চলছে। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকা ঘিরে চলছে টহল কার্যক্রম। 
এসআরবি-৩-এর মিডিয়া অফিসার বলেন, নিয়মিত টহল কার্যক্রম ও পূজার বিশেষ কার্যক্রম চলছে। নিরাপত্তা সব ইস্যুতে আমরা কাজ করছি। 
বিসর্জন ঘিরে ঢাকায় ১৬ হাজার পুলিশ : ডিএমপি
এ দিকে দুর্গামূর্তি বিসর্জন ঘিরে ঢাকা মহানগরীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) মো: শহীদুল্লাহ। বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘেœ সম্পন্ন করতে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এবার ঢাকা মহানগরীর ৩৩টি পয়েন্টে বিসর্জন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিসর্জন হয়েছে ওয়াইজঘাট এলাকায়।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের প্রায় ১৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। মহানগরীর ৩৩টি পয়েন্টে বিসর্জনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিসর্জনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 
বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এসআরইউ, সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং এসআরবির সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। 
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা মহানগরীতে এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবেলায় পুলিশের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।