অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক যাত্রী
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নাওটী স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেন : নয়া দিগন্ত।

 কুমিল্লা প্রতিনিধি

Advertisement

কুমিল্লায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ও চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নাওটী স্টেশনের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনের তিন শতাধিক যাত্রী। দুর্ঘটনার পর হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন আসছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বিকল্প লাইন থাকায় অন্য ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘœ ঘটেনি।
ট্রেনে থাকা একাধিক যাত্রী জানান, গতকাল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের পর ট্রেনটি নাঙ্গলকোট স্টেশন ছেড়ে যায়। অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন ট্রেনের গতি বেশি ছিল বলে মনে হয়েছে তাদের। নাওটী স্টেশন পার হওয়ার পর হঠাৎ ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় হুড়োহুড়ি। এতে অনেকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। কয়েকজনের মাথাও ফেটে যায়।
যাত্রী নাহিদা আক্তার বলেন, ‘চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ তীব্র শব্দ হয়। এরপর একজনের গায়ের ওপর আরেকজন পড়ে যান। কয়েকজন পদপিষ্ট হন। তাড়াহুড়ো করে ট্রেন থেকে নিচে নেমে দেখি, ধোঁয়া বের হচ্ছে।’
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রেনে থাকা তিন শতাধিক যাত্রী বিভিন্ন পরিবহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের পাঁচটি অক্ষত বগি নাঙ্গলকোট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লাইনচ্যুত চারটি বগি ও একটি ইঞ্জিন উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন আসছে। উদ্ধারকাজ শেষে সেগুলোও স্টেশনে নেয়া হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো: মোস্তাফিজুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেবে।