মৃত দুই চালকের বিরুদ্ধেও পুলিশের মামলা

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

Advertisement

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই চালককে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বড়াইগ্রাম থানায় মামলাটি করেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আকবর হোসেন। এ দিকে বুধবার সকালে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে। 
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন। দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক আবুল কালাম আজাদ (৩২) ও বাসের চালক সোহেল রানাও (৩৬) নিহত হয়েছেন। 
এ দিকে স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সন্ধ্যার মধ্যেই সব হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই ভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা কেউ বাদী হয়ে মামলা করার জন্য থানায় আসেননি। তাই পুলিশ বাদী হয়ে সড়ক নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে। পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে। তদন্তে আসামি শনাক্ত হলে এবং বেঁচে থাকলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করা চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় যারা মারা গেছেন, তারা প্রকৃতই চালক না সুপারভাইজার সেটা নিশ্চিত নয়। তবে তদন্তে যদি দুই চালকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয় তাহলে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হবে। আর কোনো গাড়ির ফিটনেসের সমস্যা প্রমাণ হলে সেই গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাতে মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে।
বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না
নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় দুর্ঘটনা কবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না বলে জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নাটোর অফিসের তথ্যানুযায়ী, বাসটির রুট পারমিট ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত বৈধ রয়েছে, তবে এর ফিটনেস সনদের মেয়াদ গত ১৩ মে শেষ হয়ে গিয়েছিল। বুধবার দুপুরে নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা: সুমনী আক্তার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক আরো জানান, তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদন ও সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে এই ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলার পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি
দুর্ঘটনার পর দিন সকালেই কাজ শুরু করেছে সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। দুর্ঘটনার কারণ গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে আহ্বায়ক নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির সাত সদস্যের সবাই বুধবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা দুর্ঘটনাস্থল সরেজিমনে পরিদর্শনসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও বনপাড়ার বিভিন্ন ক্লিনিকসহ নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সাথে কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা কাজ শুরু করেছি। যদিও আমাদেরকে নির্ধারিত কোনো কার্যদিবস বেঁধে দেয়া হয়নি, তবে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যেই দুর্ঘটনার যথাযথ কারণ উদ্ঘাটনসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব বলে আশা করছি।