
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাতে দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে মাইনে আঘাত করার পর দু’টি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে। এ ঘটনায় জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
ফার্সের খবরে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে মাইনে আঘাতের পর ট্যাংকার দু’টি আগুনে পুড়তে শুরু করে। তবে জাহাজ দু’টির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী সেগুলো, হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা আগুনের ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। আইআরজিসির বরাতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তেল কোম্পানিগুলোকে আরো বড় মূল্য দিতে হবে। আইআরজিসি বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ শাসনের দুষ্টামি অব্যাহত থাকলে তেল কোম্পানিগুলোকে আরো বেশি মূল্য দিতে হবে।”
এ দিকে হরমুজ প্রণালীর উপরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে বলে দাবি আইআরজিসির। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাতে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের মহাকাশ বাহিনীর পরিচালিত একটি নতুন, অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে হরমুজ প্রণালীর ওপরে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর’ ড্রোনটিকে শনাক্ত করার পর ধ্বংস করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধে ন্যাটো ‘সাহায্য করেনি’: ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ন্যাটোর মিত্র জোটগুলো ওয়াশিংটনকে ‘সাহায্য করেনি’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার একটি নির্বাচনী প্রচার সভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি পশ্চিমাদের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। খবর মিডল ইস্ট আই-এর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ত্রুটি ও দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের পাশে রয়েছে। তবে তারা যদি দ্রুত সঠিক পথ খুঁজে না নেয়, তবে ন্যাটোর সামরিক জোট ছেড়ে যাওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অন্য কোনো উপায় থাকবে না। ন্যাটোকে সুরক্ষার কাজে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সহায়তার আহ্বান জানানো হলে জোটটি তা প্রত্যাখ্যান করে। সহযোগিতার বিষয়ে ন্যাটোর এমন অনীহার কথা যুক্তরাষ্ট্র কখনো ভুলে যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সামরিক সমাধান নেই : কাতার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কোনো সামরিক সমাধান নেই বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটি যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বলেও জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যমবিষয়ক পরিচালক। সূত্র : আলজাজিরা।
তিনি বলেন, আমাদের আশাবাদী থাকতে হবে, আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে এবং সমাধানে পৌঁছতে কী কী প্রয়োজন, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, সামরিক সমাধানের কোনো পথ নেই। উত্তেজনা বাড়ানো উচিত নয়। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোলা রাখতে হবে।
মধ্যস্থতায় তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র : আল-জাজিরা।
তাছাড়া ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়, সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হবেন। এতে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সঙ্ঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। চলমান মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান। এই সঙ্কটের মধ্যে দুই দেশের সাথেই নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে দেশটি। আসিম মুনিরের এই সফর আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
তেহরানের সাথে টানা উত্তেজনা ও সঙ্ঘাতের মুখে ইরান সরকারের সাথে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিশেষ দূত টম বারাক এ কথা জানিয়েছেন। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু গতকাল মঙ্গলবার জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অচলাবস্থা থাকলেও আমেরিকা আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহী। কাতারের দোহায় আয়োজিত ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরাম’-এ বক্তব্য দেয়ার সময় মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক এসব কথা বলেন। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যর্থ ইতিহাস নিয়েও তিনি খোলামেলা প্রশ্ন তোলেন। টম বারাক আক্ষেপের সুরেই স্বীকার করেন, এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস মোটেই সুখকর নয়। অতীতের ভুল তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রতিবারই যখন আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ঢুকে কোনো শাসক বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি, তখনই সেটা এক বিরাট ভুল পদক্ষেপ বলে প্রমাণিত হয়েছে।’ ইরান ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এটি ভুল ছিল কি না তা স্পষ্ট না করলেও এর ফলে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতিকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাশাপাশি ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের সাথে ক্রমবর্ধমান সঙ্ঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে রসদ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান টম বারাক। তবে হাউছিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন কোনো স্থল অভিযান চালানো একেবারেই ‘অর্থহীন’ বলে মনে করেন তিনি। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য ওয়াশিংটনের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের মধ্যেই আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা আর হাউছিদের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন সুর বদলের বার্তা এলো। ইয়েমেন পরিস্থিতি সামরিক শক্তির বদলে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের দিকেই এখন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আবদুর রহমান মোহাম্মদ আল-সাইয়্যেদ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী যুদ্ধকে নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি এই যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। ইরানের সাউন্ড অ্যান্ড ভিশন সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোর দিয়ে বলেছেন, ‘বাস্তবে গোটা বিশ্বে মাত্র একজন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি ৪০ বছর ধরে আমাদের এই যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন। তিনি হলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অবশেষে তিনি এমন একজন নির্বোধ ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়েছেন, যিনি এই কাজ করতে রাজি হয়েছেন।’ উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসন ক্রমেই ব্যয়বহুল ও অর্থনৈতিক সঙ্কট জোরদারের কারণ হচ্ছে। এতে ট্রাম্প ও তার দলের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের মধ্যে ক্ষোভ এবং সমালোচনাও বাড়ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








